সম্পাদকীয়

পরিস্থিতি মোকাবেলায় উদ্যোগী হোন

সিলেটের বন্যা

দুদিন বৃষ্টি না হওয়ায় সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হলেও রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ভারি বর্ষণে পরিস্থিতি পূর্বাবস্থায় ফিরে গেছে। সিলেটের উপজেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। রোববার শেষ রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ভারি বর্ষণে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পানি প্রবেশ করেছে। কয়েকটি প্রধান সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা দেন নগরবাসী। তবু শেষ রক্ষা হয়নি। এসব এলাকার বিদ্যুৎ, পানি ও খাবারের সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন করে ছয় হাজার পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে। আমরা আশা করি, এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। তবে বন্যার প্রকোপ শেষ হওয়া মানেই সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। পানি নেমে যাওয়া শুরু হতেই দুর্ভোগ বাড়ে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর অধিবাসীদের। স্পষ্ট হয় বন্যাজনিত ক্ষতগুলো। বন্যার পানিতে গ্রামীণ সড়কগুলো হয় ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে বিঘœ ঘটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে। যেসব সড়কে বন্যার পানির তোড়ে গর্ত তৈরি হয়, সেসব সড়ক ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। যেসব এলাকা থেকে পানি সম্পূর্ণ নেমে যায়, সেখানে ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ। আবার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে অনেক এলাকায় ভেঙে পড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি। বন্যা পরিস্থিতির বর্তমান পর্যায়ে এসে বন্যার ক্ষত সারানো এবং পুনর্বাসনের প্রশ্ন দুটি সামনে চলে এসেছে। বন্যায় সরকারি সম্পত্তি ও অবকাঠামোর যে ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো মেরামতের দায়িত্ব সরকারেরই। কিন্তু সাধারণ মানুষের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো পূরণ হবে কীভাবে? এক্ষেত্রেও নিশ্চয়ই সরকারের যথেষ্ট কিছু করার আছে। প্রথমত, বন্যার সময় পানিবাহিত যেসব রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে, সেগুলোর নিরাময়ে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও জরুরি। আগামী দিনগুলোয় বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকসমাজ যাতে তাদের কৃষিকাজ যথাযথভাবে চালিয়ে নিতে পারে, সে জন্য তাদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে ব্যাংকঋণের। আমরা লক্ষ করেছিলাম, বন্যা শুরু হওয়ার সময়টাতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা প্রতিরক্ষামূলক ও সেবাধর্মী কর্মকা- পরিচালনা করা হয়েছিল। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের প্রয়োজনীয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানিও সরবরাহ করা হয়েছে। আমাদের কথা হলো, স্থানীয় প্রশাসনকে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিও সমান আন্তরিকতা দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোরও বন্যাকবলিত দুর্গত মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানো উচিত। আমরা মনে করি, সব মহলের যৌথ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় সিলেটের বন্যাকবলিত মানুষ আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে নির্বিঘেœ জীবনযাপন করতে সক্ষম হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button