সম্পাদকীয়

বছরে সোনা-হীরা পাচার ৯১২৫০ কোটি টাকা

কোনো কিছুতেই থামছে না স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান। দেশের সবকটি বিমানবন্দর ও সীমান্ত পথে কোনো না কোনোভাবে স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালান চলছেই। বিমান, বেসরকারি এয়ারলাইন্স ও সিভিল অ্যাভিয়েশনের কর্মীদের সরাসরি জড়িত থাকার ভূরি-ভূরি অভিযোগ থাকলেও প্রতিকার মিলছে না। সোনা ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ৯১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বেশি পাচার হয়ে যাচ্ছে। আর এ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করছে চোরাকারবারিরা। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৩০টি জেলার সীমান্ত অবস্থিত। এর মধ্যে খুলনা বিভাগের ৬ জেলা মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াড়াঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরা সোনা চোরাচালানের নিরাপদ রুট হয়ে উঠেছে। ভারতে পাচার হওয়া সোনার বড় একটি অংশ এসব জেলার সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে থাকে। প্রবাসী শ্রমিকদের রক্ত-ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার করে প্রতিদিন সারা দেশের জল, স্থল ও আকাশ পথে কমপক্ষে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার অবৈধ সোনার অলংকার, সোনার বার, ব্যবহৃত পুরোনো জুয়েলারি ও হীরার অলংকার চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে, বছর শেষে যা দাঁড়ায় প্রায় ৯১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ২২০ কোটি টাকার সোনা ও সোনার অলংকার এবং ৩০ কোটি টাকার হীরা ও হীরার অলংকার আসে। সে হিসাবে বছরে ৮০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার সোনা ও ১০ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার হীরা অবৈধভাবে আসছে। এ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে সোনা ও হীরা চোরাকারবারিরা বিদেশে পাচার করে থাকে। যার ফলে সরকার রেমিট্যান্স হারাচ্ছে। প্রতিবছর সোনা চোরাচালানের খবর পাওয়া গেলেও হীরা চোরাচালানের খবর না পাওয়া রহস্যজনক। ফলে হীরা চোরাচালানের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। যেহেতু সারা দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা রক্ষা ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। তাই কোনো দুষ্কৃতকারী, চোরাকারবারি যাতে দেশবিরোধী ও অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ উপায়ে কোনো চোরাকারবারি যেন হীরা ও সোনা অলংকার দেশে আনতে এবং বিদেশে পাচার করতে না পারে সেজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। স্বর্ণ চোরাচালানচক্রের এদেশীয় এজেন্টদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াটা জরুরি। এ চোরাচালানগুলোর সঙ্গে যেসব বড় বড় সিন্ডিকেট জড়িত, তাদের চেইন ভেঙে দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button