কর ফাঁকি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন

বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা শুল্ক, কর ফাঁকি। নানা পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও কর ফাঁকির প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আইনের যেমন দুর্বলতা রয়েছে, তেমনি আছে আইন প্রয়োগে প্রশাসনের উদাসীনতা। গত বছর বেসরকাারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি বলেছে কর ফাঁকির কারণে এনবিআরের কর ক্ষতির পরিমাণ ২ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। নিশ্চয়ই এ পরিমাণ এখন অনেক বেশি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোয় কর ফাঁকি বা অনীহা বলতে কিছু নেই। দেশে রাতারাতি কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে, আর সেইসঙ্গে কর দিতে সক্ষম ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়ছে, কিন্তু তারা কর দিচ্ছেন না। কর প্রদানে মিথ্যা ঘোষণা অনেক দিন ধরে চলে আসছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় করের ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে অনেক ব্যবসায়ী তাদের বিক্রয় ও লাভের পরিমাণ কম দেখায়। আবার আমদানি ও রফতানির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণায় এবং ওভার ইনভয়েসিং ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দেয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। শুধু তা-ই নয়, বিদেশে অর্থ পাচারের একটা বড় অংশ যায় আমদানি-রফতানি দ্রব্যমূল্যের ওভার ইনভয়েসিং ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে। ব্যবসাভিত্তিক অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওভার ইনভয়েসিং বা আন্ডার ইনভয়েসিং ধরা পড়লে উচ্চহারে করারোপ ও জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাতেও এটি বন্ধ হচ্ছে না। কারণ আইনের প্রয়োগ স্বচ্ছ নয়। কাস্টমস আইন ও কর আইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করার জন্য কয়েক বছর ধরে কাজ চলছে। বর্তমানে কাস্টমস আইন, আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিংয়ের জন্য পরীক্ষাধীন রয়েছে। নতুন কর আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। উভয় আইন বলবৎ হলে ব্যবসা, কর সংগ্রহ ও রাজস্ব প্রশাসনে সুশাসন ফিরে আসতে পারে। বর্তমান সরকার অবশ্য কর ফাঁকি বন্ধ ও সক্ষম ব্যক্তিদের কর দিতে বাধ্য করার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে যে সুফল মেলেনি, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদ, সরকারের নীতিনির্ধারক সবাই মনে করেন দেশের যে পরিমাণ মানুষের আয়কর দেয়ার কথা, এর সামান্য অংশই কর দেয়। আয়করদাতাদের একটি বড় অংশ আবার নানাভাবে কর ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করে। কর ফাঁকি দিতে অনেকে নিজের টাকাকে অন্যের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ধার বা ঋণ হিসেবে উল্লেখ করে। কর ফাঁকির পেছনে প্রশাসনিক অদক্ষতা বা দুর্নীতিই মূল বাধা। দুর্নীতি তো আইন সংস্কার করে কমানো বা বন্ধ করা যাবে না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে অটোমেশন, কিন্তু অটোমেশন হলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে তা-ও না। ই-জিপি দেখলে সেটাই বোঝা যায়। সবচেয়ে বড় কথা, দুর্নীতি বন্ধের চেষ্টা করতে হবে। তাহলে বিত্তবানদের কর ফাঁকি বন্ধ করা সম্ভব।
