উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়িতে নাকাল রাজধানীবাসী

দেশে বর্ষার মৌসুম শুরু হলেও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। কোথাও খোঁড়াখুঁড়ির পর ফেলে রাখা হয়েছে ক্ষতবিক্ষত সড়ক। বৃষ্টি হলে পানিতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে নিষ্কাশন ব্যবস্থাহীন রাজধানীর অনেক এলাকা। উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে অপরিকল্পিতভাবে এ খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সারা বছরই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এছাড়াও ঘন ঘন খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাজধানীর তীব্র যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পুরান ঢাকার অন্তত সাতটি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রধান-অপ্রধান বিভিন্ন সড়কের অবস্থা এতটা করুণ যে, ওইসব এলাকায় চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। আরো অন্তত চারটি ওয়ার্ডের অবস্থাও গুরুতর। অলিগলিসহ সব সড়ক কাটাকাটি করায় অত্যন্ত দুরূহ পথ পেরিয়ে এলাকাবাসীকে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটির উত্তর শাহজাহানপুর, লালবাগসহ মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে। সর্বত্র মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটির তুরাগ, উত্তরখান ও দক্ষিণখানের সড়কগুলোও দীর্ঘদিন ধরে খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। ওই তিন এলাকার প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি সব ক্ষতবিক্ষত। বর্ষায় ওইসব এলাকার চলাচল যে কতটা ভয়াবহ এবং বিপজ্জনক সেটি কেবল স্থানীয়রা জানেন। মানুষ উন্নয়নের জ¦ালায় অতিষ্ঠ! তাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা মোহাম্মদপুরের বেশ কিছু সড়কের। এসব সড়ক খুঁড়ে ঢাকা ওয়াসা পানির পাইপলাইন বসিয়েছে। পরে আর সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়নি। প্রতি বছর বর্ষা এলেই যেন খোঁড়াখুঁড়ির তোড়জোড় আরও বেড়ে যায়। ধুলায় ধূসরিত হয়ে আর কাদাপানি ও জলাবদ্ধতায় যার মূল্য নগরবাসীকে দিতে হয়। এছাড়া নতুন করে কুড়িল প্রগতি সরণি সড়কে মেট্রোরেল-১ এর নির্মাণ কাজের জন্য সেবা সংযোগ প্রতিস্থাপন কাজ চলছে। এ কারণে বসুন্ধরা গেট, যুমনা ফিউচার পার্কের সামনের এলাকা পর্যন্ত তীব্র যানজট হচ্ছে। যেখানে বর্ষার মৌসুমে রাজধানীর সড়ক খুঁড়ে উন্নয়ন কাজ করার কথা নয়। সড়ক নীতিমালায় বর্ষার সময়ের কাজকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এরপরও সিটি করপোরেশনের নিজস্ব, বিভিন্ন সংস্থার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। নীতিমালার শর্তগুলো বাস্তবায়ন উপেক্ষিত থাকছে। অর্থছাড়ে দেরি, বিদেশি ফান্ড ফেরত যাওয়া এবং অর্থবছরের মধ্যে কাজ শেষ করার তাড়া এসব দেখিয়ে বর্ষার মৌসুমেও সড়ক খুঁড়ে দেদারছে উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলছে। এতেই জলাবদ্ধতা ও সড়ক কর্দমাক্ত হচ্ছে। ফলে সড়কে চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। জনগণের এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে সেকথা জানে না কেউ। তবে বর্ষার ভেতরে জনগণের এই মহাদুর্ভোগের ইতি না টানলে নাগরিক জীবন অন্তহীন দুর্ভোগে নিমজ্জিত হবে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে কাজ দ্রুত শেষ করা দরকার।
