সম্পাদকীয়

গ্রাহকদের দুর্ভোগের অবসান করতে হবে

যে দেশের অর্থনীতি যত বেশি সুসংহত, সে দেশে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা ব্যাংকের সংখ্যা তত কম। এক্ষেত্রে আমরা থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার দিকে তাকালে দেখতে পাই যে তাদের অর্থনীতির আকার বেড়েছে। একই সঙ্গে অর্জন করেছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। অর্থনীতির আকার বিবেচনায় সেসব দেশে স্থানীয় ব্যাংকের সংখ্যা বাড়েনি। এসব দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ায় সেখানে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। কিন্তু দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের সবার জানা আছে, ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন অর্থপ্রবাহের ধারাবাহিকতায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পুরো অর্থনীতি সচল থাকে। বাজারব্যবস্থায় চাহিদা-সরবরাহের সাবলীল গতিধারায় বিশ্বের যে কোনো রাষ্ট্রে ব্যাংকের অবদান অনিবার্য। সবল ও দুর্বল ব্যাংকের ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবদানও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পক্ষান্তরে গ্রাহকদের পুঞ্জীভূত সঞ্চয়ের বিপরীতে প্রাপ্ত মুনাফাই হচ্ছে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রধান অবলম্বন। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পেনশন বা অন্যান্য বৈধ খাতে আয়কৃত সঞ্চয়গুলো ব্যাংকগুলোরও অন্যতম পুঁজি। বর্তমানে শান্তিতে নোবেলজয়ী বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার অধিষ্ঠিত। বিগত এক মাসেই নানাভাবে উচ্চারিত কীভাবে প্রকল্পের নামে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থব্যবস্থাকে প্রায় পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। অদম্য উন্নয়নের বেড়াজালে সীমাহীন অর্থ লুট পাকাপোক্ত করা হয়েছে। অতিসম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, বাংলাদেশের কমপক্ষে ১০টি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার মতো সংকটময় অবস্থায় রয়েছে। তারল্য সংকটে এসব ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধের পথে। গ্রাহকদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও আশঙ্কাগ্রস্ত কাতরতায় দেশের অবস্থা অনেকটা নাজুক। ব্যক্তি বিশেষের মালিকানায় কয়েকটি ব্যাংকে সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহণ-খেলাপি ও সংশ্লিষ্ট অর্থপাচারের ঘটনাসমূহ বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিকেও করেছে প্রশ্নবিদ্ধ। সর্বশেষ ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সহায়তার আশ্বাস গ্রাহকসহ দেশের আপামর জনগণের মাঝে নতুন আশা সঞ্চার হয়েছে। কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ না রেখে এদের অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে যথাযথ অবহিত করাও একান্ত জরুরি। গ্রাহক যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বিপদগ্রস্ত না হয় তার জন্য যথোপযুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় রুটিন দায়িত্বের আওতায় নিয়ে আসা গ্রহণযোগ্য পন্থা হিসেবে বিবেচ্য। ব্যাংকের সংস্কারজনিত কারণে ক্ষুদ্র গ্রাহকদের আশঙ্কিত দুর্ভোগ কোনোভাবে যেন ভোগান্তির কারণ না হয়, সেদিকে সব কর্তৃপক্ষের মানবিক বিবেচনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button