সাগর উপকূল পরিচ্ছন্ন রাখা সকলের দায়িত্ব

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মানুষের মনকে চাঙ্গা করে, মনকে সতেজ করে। কথায় বলে- মন ভালো তো সব ভালো। মন যদি খারাপ হয় তখন কিছুই ভালো লাগে না। মন ভালো করার জন্য প্রথম উপায় হলো নিজে পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন থাকা। হ্যাঁ, নিজে ভালো থাকলেই হবে না, পরিবার-সমাজকেও ভালো রাখতে হবে। একজন সচেতন মানুষের জন্য হলো নিজে ভালো থাকা, পরিবারসহ সমাজকে ভালো রাখা। সমাজ কীভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা যায় এটা নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যথাই নেই। দেশের কর্তারা শুধু শহর কেন্দ্রিক ভাবতে ভাবতে শেষ, উপকূল নিয়ে ভাবার সময় তাদের কোথায়। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব প্রায় পুরোটাই আসলে উপকূল। উপমহাদেশের মানুষ যেমন পাহাড় বলতে এভারেস্ট বুঝে, বাংলাদেশের মানুষ উপকূল বলতে কক্সবাজারকেই বুঝে। আসলে এর ব্যাপ্তি অনেক বড়। বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরমুখী মূল ভূখ– পুরোটাই উপকূল; দেশের ১৯ জেলা নিয়ে বাংলাদেশের উপকূল। ৭০০ কিলোমিটারের অধিক এই উপকূলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা। উপকূলে যে শুধু ঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর দুর্যোগ তা নয়, উপকূলে রয়েছে মৎস্য, পর্যটন সম্ভাবনার জায়গা। সেই সম্ভাবনা জায়গা অসচেতনতায় এখন প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্যে ভরে উঠছে সমুদ্রের পাড়। প্রতিনিয়তই দূষণের শিকার হচ্ছে আমাদের সমুদ্র উপকূল। বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহার ২০২০ সালে এসে ৯ কেজি হয়েছে, যা ২০০৫ সালে ছিল ৩ কেজি। এসব প্লাস্টিকের বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত সাগরে গিয়ে পড়ে। এটি সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। সুইজারল্যান্ডের বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু গবেষণাময় সাগরে বিশাল প্লাস্টিক আবর্জনা ঘূর্ণিপাকের দৃশ্যগুলো আতঙ্কের। ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বড় অংশ উপকূলেই রয়ে যায়, যা মারাত্মক ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা যায়, সাগরের প্রায় ৮০ শতাংশ ভাসমান প্লাস্টিক বর্জ্য পাঁচ বছর পরেও উপকূলের কাছাকাছি বা উপকূল থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যেই থেকে যায়। প্রতি বছর প্রায় ১৩ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক সাগরে যায়, যার বড় একটি অংশ আবার উপকূলে ফিরে আসে। সাগরে ভেসে যাওয়া প্লাস্টিকের কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ আবার উপকূলেই আটকা পড়ছে। যার পরিণতি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে। সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্যরে প্রবাহ কমাতে মনোযোগ দিতে হবে। এ জন্য পরিষ্কারের চেয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য যেন সমুদ্রে না ফেলা হয়, সে চেষ্টা করতে হবে।
