সম্পাদকীয়

পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা

কোনোভাবেই পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রকাশিত তথ্য বলছে, ৯.৭৩ শতাংশ গড় মূল্যস্ফীতি নিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষ করেছে বাংলাদেশ। অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচককে ৬ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল সরকার। পরে তা সংশোধন করে ৭.৫ শতাংশ করা হয়। তবে সেই লক্ষ্যও পূরণ করা যায়নি। খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আমদানি ঠিক রেখে সাপ্লাই চেইন সচল রাখার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বয়। সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি রোধ, যা দেশের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলছে। মূল্যস্ফীতি রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল। দীর্ঘ সময়ে অধিক মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করে। তাই পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বতী সরকার পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ধ্বংস করে যাওয়া অর্থনীতি ও রাষ্ট্রযন্ত্র সংস্কারের চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ব্যাংক ও আর্থিক খাতসমূহে সুশাসন ফিরিয়ে আনার সংস্কারের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভাল। তবে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে যেখানে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস চলছে, সেখানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রশ্ন জেগেছে, সবকিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও দ্রব্যমূল্য কেন কমছে না? সমস্যা কোথায়? স্বৈরাচারী পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে স্বৈরাচারের নেতাকর্মী ও পুলিশ ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি করত। এখন তা থেকে মুক্ত। তাহলে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়ছে কেন? অন্তর্র্বতী সরকার ইতোমধ্যে কিছু কিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে। ডিজেল, পেট্রলসহ জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে। অথচ এর প্রভাব বাজারে পড়ছে না। নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখীই রয়ে গেছে। আজ এক দামে কিনলে পরদিন গিয়ে দেখা যায় দাম আরও বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত হতাশার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে। চালের দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। তারপরও চালের দামবৃদ্ধি পাওয়া অস্বাভাবিক। এখানে মিলারদের কারসাজি রয়েছে কিনা, তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ‘জীবন দিয়ে রক্ষা করা’র ঘোষণা দেয়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় রয়েছে। তারা যে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে অন্তর্র্বতী সরকারকে বেকায়দায় ফেলবে, তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ অন্য সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। বাজারে শুধু দাম নয়, আরো অনেকভাবে ভোক্তাদের প্রতারিত করা হয়। ভোক্তাদের সেসব অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণেরও উদ্যোগ নিতে হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button