সম্পাদকীয়

ডেঙ্গু নিধনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার

চলতি বছরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ তেমনটা না থাকলেও কিছুদিন ধরে ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত আগস্টের চেয়ে চলতি সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। আগস্টের শেষ দিক থেকে ক্রমেই হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চাপ বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে সেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। প্রতিদিনই শত শত মানুষ ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। নিহতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্যে বলা হয়েছে, নতুন ৮৬৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। মারা গেছে দুজন। এ নিয়ে ডেঙ্গুতে এ বছর মৃত্যুর সংখ্যা ১৩৩ জনে পৌঁছালো। এর মধ্যে ২১ জনই শিশু। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি ১৯ শতাংশ রোগীই শিশু। এদের বয়স ১৫ বছর বা তার কম। চলতি বছর ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৯০০ জন। আক্রান্ত রোগীদের বয়সভিত্তিক জরিপে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। যা মোট আক্রান্তের ৪১.৬৮ শতাংশ। ১৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ১৯.০৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বর্তমানে সারা দেশে দুই হাজার ৭৭২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি এক হাজার ৪৩৭ জন। কীটতত্ত্ববিদরা আশঙ্কা করছেন, অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ থাকবে। আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটিই বাড়বে। এতে মানুষের মাঝে দুশ্চিন্তা বেড়েই যাচ্ছে। মূলত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে যেমন এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি কত-তা জানতে বর্ষা জরিপ হয়নি। এতে মশা নিধন কার্যক্রম যথাযথ হয়নি। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু রোগীর সঠিক তথ্য ও সংখ্যা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ বছর শুরু থেকে মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা থাকলেও মাঝে সেটি ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে গত দেড় মাস সেই অর্থে জোরালো মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়নি বা নেওয়া যায়নি। সে কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সিটি করপোরেশনগুলোকে মশক নিধনে কার্যকর বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থায় জোর দিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সচেতন হতে হবে। এছাড়াও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগের বিকল্প নেই। আমরা আশা করব, অন্তর্বর্তী সরকার ডেঙ্গু নিধোনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button