সম্পাদকীয়

সড়কে সংস্কারকাজে ধীরগতি : দ্রুত কাজ সম্পন্ন করুন

যেকোনো সড়কে সংস্কারের উদ্দেশ্য জনসাধারণের দুর্দশা-দুর্ভোগ লাঘব করা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের দেশের অনেক সড়কের সংস্কারকাজ শেষ পর্যন্ত জনগণের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। সঠিক সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে ওঠে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংস্কারকাজেও একই হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার আমতলী অংশে সংস্কারকাজে ধীরগতির কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাজারো যাত্রী সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে। অস্থায়ী ইট-বালু দিয়ে কোনোমতে কাজ করা হচ্ছে। এতে বৃষ্টিতে সমস্যা আরো বাড়ছে। দুই সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে সংস্কারকাজ করছে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ (সওজ)। এতে গত মঙ্গলবার ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের চালক টিপু সুলতান বলেন, দুই কিলোমিটার সড়ক পার হতে অন্তত ৪০ মিনিট সময় লেগেছে। সওজের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটছে। সমস্যা সমাধানে যেখানে গর্ত, সেখানে ইট-বালু ফেলা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য আমরা অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বর্ষা মৌসুম শেষে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’ মনে রাখা দরকার, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের আর দশটি সড়কের মতো নয়। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বেশির ভাগই সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে, আর সেই পণ্যের মূলপথ এই চার লেনের মহাসড়ক। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, সংস্কারকাজ শুরু হলেই সড়কের এক পাশ বন্ধ রেখে তৈরি করা হয় দীর্ঘ যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে থাকে হাজার হাজার যানবাহন। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকসহ পচনশীল পণ্যের চালানে ঘটছে ভয়াবহ বিলম্ব। এমন সংস্কারের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা দরকার। বর্ষা এলে বা সংস্কারকাজ শেষ হতে না হতেই নতুন করে পিচ উঠে যাওয়া কাজে অনিয়ম ও গাফিলতিই সামনে আনে। আমরা মনে করি, অতিসত্বর দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যানজটমুক্ত করা দরকার। এ ছাড়া দুই দিন পর পর নয়, টেকসই সংস্কারই হওয়া উচিত প্রকৃত লক্ষ্য। এ জন্য প্রশাসনিক সক্ষমতাও বৃদ্ধির প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button