সম্পাদকীয়

দেশ প্রযুক্তিতে আছে তবে দুর্বল ডেটা বেইস

# সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিন #

প্রযুক্তি অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। এখন এক ক্লিকেই অনেক কিছু জানা যায়। একইভাবে জানা যায় একজন মানুষের আদ্যোপান্তও। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, আমরা প্রযুক্তিকে এখনো যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। ফলে প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে যে ধরনের সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, তা থেকে আজও আমরা বঞ্চিত। গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, দুর্বল ডেটা বেইসের কারণে অনেক অপরাধই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। কোনো অপরাধী অপরাধ করে এরপর নিজের পরিচয় লুকিয়ে ঠিকই চাকরিবাকরি করছে। নতুন কর্মক্ষেত্রেও তারা অপরাধে জড়াচ্ছে। অপরাধীরা যেমন বেপরোয়া হয়ে পড়ছে, তেমনি সমাজেও কাক্সিক্ষত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। খবরে বলা হয়েছে, অপরাধীরা কখনো নাম-পরিচয় বদলিয়ে, কখনো ঠিকানা কিংবা পদ-পরিচয় গোপন করে একের পর এক অপরাধ করে চলছে। এক জায়গায় ধরা পড়লেও আগের অপরাধ শনাক্তকরণে দুর্বলতা কিংবা সমন্বয়হীনতার কারণে অপরাধের মাত্রা যাচাই করা যাচ্ছে না। আবার সরকারি চাকরিতে যত সহজে অপরাধী চিহ্নিত করা যায়, বেসরকারিতে তা করার কোনো উদ্যোগ নেই। গৃহকর্মী, দারোয়ান থেকে কর্মকর্তা কিংবা করপোরেট নির্বাহীÑকারো ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ একক ডেটা বেইস বা তথ্যভা-ার নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তথ্যের মধ্যে কার্যকর সংযোগ না থাকায় অপরাধীর অতীত নিয়ে যাচাই অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে। সম্প্রতি আলোচনায় আসে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মুখে ও দুই হাতে স্কচ টেপ পেঁচানো ইসমাঈল হোসেনের (৪৯) লাশ বাস থেকে ফেলে যাওয়ায় জড়িত বাসচালক এবং এক সহযোগী আটকের ঘটনাটি। ওই বাসের সুপারভাইজার সাজুর বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতির মামলা এবং চালক সোহেলের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও দুটি মাদকের মামলা রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাঁরা দিব্যি বাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। আরো উদ্বেগের ব্যাপার হলো, থানাগুলোতেও পর্যাপ্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতি নেই। ফলে একাধিক মামলার আসামিরাও গ্রেপ্তারের পর নাম-ঠিকানা বদলে ফেলছে। জানা গেছে, শুধু কুমিল্লা কারাগারেই এ ধরনের ২৩ জনের ঘটনা পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরাধীর তথ্য এক জায়গায়, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাই করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধ গোপন রেখে চাকরি কিংবা ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পার পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। এমনকি সরকার আন্তরিক হলে একটি সিস্টেমে একজন ব্যক্তির সব তথ্য একটি কার্ডেও নিয়ে আসা সম্ভব। সেখানে তার সব তথ্য থাকবে, গুরুতর অপরাধী হলে রাষ্ট্রের নাগরিক সুবিধা পেতে গেলে তার অপরাধ ধরা পড়বেÑএমন সিস্টেম চালু করা জরুরি। সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক মনে করেন, অপরাধীরা এখন শুধু প্রচলিত কৌশলে অপরাধ করছে না, বরং নিজেদের পরিচয়, শারীরিক অবয়ব ও সামাজিক অবস্থান আড়াল করে নানা ধরনের ছদ্মবেশ ধারণ করছে। এই প্রবণতা মোকাবেলায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতার পাশাপাশি পরিচয় যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। আমরা মনে করি, তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ-সুবিধা যেমন থাকা প্রয়োজন, একই সঙ্গে তথ্য সুরক্ষার নিশ্চয়তাও থাকা দরকার। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও যেন তথ্য যাচাই করা যায়, সেই ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেবেÑএটাই কাম্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button