বিপাকে আলু চাষিরা : প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে আলুর বাম্পার ফলন হচ্ছে। কিন্তু তার পরও আলু চাষিদের মুখে হাসি নেই। যে আশা নিয়ে তাঁরা আলু চাষ করেন, ফসল ঘরে তোলার পর তা হতাশায় পরিণত হয়। হিমাগারে আলু সংরক্ষণেই কৃষকের বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। এর ওপর বাজারেও মিলছে না কাক্সিক্ষত দাম। খবরে বলা হয়, দেশের খাদ্য ও বীজ হিসেবে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টন। গত মৌসুমে দেশে আলু উৎপাদিত হয়েছিল এক কোটি ১০ লাখ টনেরও বেশি। কয়েক বছর ধরেই এক কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদিত হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত থেকে যায়। অন্যদিকে দেশে বর্তমানে ৪০০টির বেশি বাণিজ্যিক কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে, যেখানে সব মিলিয়ে ধারণক্ষমতা মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টন। দেখা গেছে, উৎপাদিত আলুর তুলনায় কোল্ড স্টোরেজের সক্ষমতা অনেক কম। অথচ শুধু কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণ বাবদ কৃষকের বিপুল অঙ্কের অর্থ গুনতে হচ্ছেÑগত মৌসুমে যা ছিল প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। উৎপাদনের একটি বড় অংশই কৃষকরা সরাসরি বাজারে বিক্রি করে থাকেন। সেই সময় দামও কম থাকে। সমস্যা শুরু হয় হিমাগারে সংরক্ষণ নিয়ে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে কোল্ড স্টোরেজে রাখাসহ কৃষকের প্রতি কেজি আলুর খরচ ১৮ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত পড়ে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে অনেক এলাকায় কৃষকরা এর চেয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। খবরে বলা হয়েছে, আলু সংরক্ষণের খরচ নিয়ে কয়েক বছর ধরেই কৃষক ও হিমাগার ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন গত বছর হিমাগারে আলু রাখার ভাড়া কেজিপ্রতি আট টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আলু চাষিদের প্রতিবাদের মুখে তা ছয় টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে হিমাগার মালিকরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় ব্যবসা পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। আমাদের দেশ কৃষিনির্ভর। কৃষিতে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। অথচ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের কৃষি আলোর মুখ দেখছে না। শুধু সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর প্রচুর মৌসুমি ফসল নষ্ট হয়ে যায়। পত্রিকায় দেখা যায়, কৃষকরা কষ্টের ফসল রাস্তায় ফেলে প্রতিবাদ করছেন। এ অবস্থার অবসান প্রয়োজন। আশা করি, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
