আবহাওয়ার পূর্বাভাস তথ্য পান না কৃষকরা : অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে

কৃষকরা যেন সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস পান, তার জন্য আয়োজনের কমতি নেই। কোটি টাকার প্রকল্প আছে, সেই প্রকল্প বাস্তবায়িতও হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের রয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পূর্বাভাস বা সতর্কতামূলক বার্তা পৌঁছায় না খোদ কৃষকের কাছেই। আগাম তথ্য না পাওয়ায় প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। এমন প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার পালিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস’। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণÑ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষকসমাজ আজও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশ। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের মানুষের জন্য খাদ্য উৎকদন করে। কিন্তু দিন শেষে তারাই অবহেলিত। আমাদের বাস্তবতা হলো, কৃষি খাতে এখনো প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি। বছরের পর বছর ধরে কৃষকরা নিজেদের মতো করে ফসল উৎকদন করছেন। তবে দিন দিন কৃষিকাজে ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের যুগে আবহাওয়া চরম বৈরী হয়ে উঠেছে। এতে ফসল হয়তো বন্যায় ডুবছে, নয়তো খরায় পুড়ছে। বিরূপ আবহাওয়ার কবল থেকে সুরক্ষা দিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা চালু করে। পাশাপাশি দৈনিক ও সাপ্তাহিক বিশেষ পানি সম্পর্কিত পূর্বাভাস দেয় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ ছাড়া কৃষকের কাছে কৃষি আবহাওয়ার তথ্য পৌঁছাতে ২০১৬ সালে ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ’ প্রকল্প গ্রহণ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কিন্তু বাস্তবে এসব তথ্য আটকে থাকে ডিজিটাল ডিভাইসে, তা না হলে ওয়েব পোর্টালেই। মাঠের কৃষকরা এসব তথ্য থেকে বঞ্চিতই থাকেন। এ ধরনের অব্যবস্থাপনা দূর করা দরকার। কৃষকরা জানান, তাঁরা বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবার মোবাইল অ্যাপ ও রেডিও সম্পর্কে কিছু জানেন না। সুনামগঞ্জের কৃষক মোরশেদ মিয়া জানান, এবার আগাম বন্যার খবর না থাকায় হাওরে তাঁর ৫০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। একই উপজেলার আরেক কৃষক সবুজ আহমেদ বলেন, সময়মতো খবর না পেলে আফসোস করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। চারঘাটের আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, কখন পানি বাড়বে বা খরা হবেÑএসব ঠিকমতো জানতে না পারায় অনেক সময় ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এতে অনেক টাকার ক্ষতি হয়। সন্দেহ নেই, এই তালিকা আরো দীর্ঘই হবে। আমরা মনে করি, দেশের কৃষি খাত সময়োপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা দরকার। আধুনিক প্রযুক্তি চালুর পাশাপাশি এর সেবা যেন সুলভে কৃষক পর্যন্ত পৌঁছায়, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। এ জন্য কৃষকের সক্ষমতাও বাড়ানো জরুরি। তাঁরা যেন আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
