আন্তর্জাতিক

সিএনএনের প্রতিবেদনে ইরানের পরমাণু স্থাপনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করে ইরান তাদের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’ যৌথভাবে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে চুক্তির পরপরই নতুন এই তৎপরতা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারচিন এলাকায় অবস্থিত একটি স্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিস্ফোরক মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হামলার আগে এর গুরুত্ব বিবেচনায় স্থাপনাটির চারপাশে কংক্রিটের সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করেছিল ইরান। তবে জুন ও জুলাই মাসে ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুনের ছবিতে হামলায় সৃষ্ট গর্তগুলো অস্থায়ীভাবে ঢেকে রাখা দেখা যায়। পরে জুলাই মাসে সেগুলো জালের আচ্ছাদন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পুরো সময়জুড়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক কার্যকর ছিল। পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর সন্দেহ থাকা আরেকটি স্থান ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কয়েক দিনের মধ্যেই ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে ওই এলাকার টানেলগুলোতে একাধিক যানবাহনের সন্দেহজনক চলাচল দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের ইঙ্গিত হতে পারে। স্যাটেলাইট চিত্রে আরও দেখা গেছে, ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারও মেরামত শুরু করেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসফাহান, ফোরদো এবং নাতাঞ্জের মতো প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের মেরামত বা পুনর্নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। গত জুনে যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো বা নিষ্পত্তির বিষয়ে উভয় পক্ষ একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সম্মত হওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত বিষয়গুলোরও সমাধান করার পরিকল্পনা ছিল। তবে চুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের এই মেরামত তৎপরতা ধরা পড়ায় নতুন করে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে ইঙ্গিত দেন। এর পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: সিএনএন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button