ইরানে খামেনির দাফনের দিন বিস্ফোরণের দায় নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলার সঙ্গে নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলি নেতারা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর এলাকায়, যেখানে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, এবং পাশের চোগাদাক শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের কোনারাক শহরেও আরও তিনটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। পরে মেহের নিউজ বন্দর আব্বাস শহরে বিস্ফোরণের আগের একটি সংবাদ প্রত্যাহার করে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আল জাজিরাকে জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বুশেহর প্রদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ান রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে বলেন, শহরে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার ফল। তবে শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক সদর দপ্তরে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। দুই নেতা বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ট্রাম্প পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সম্পর্কেও নেতানিয়াহুকে অবহিত করেছেন। এর আগে দক্ষিণ ইসরায়েলের হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি এবং সামনে আরও বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানে আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তার ভাষায়, হুমকি দূর করতে প্রয়োজন হলে তৃতীয়বারের মতোও হামলা চালানো হবে। এদিকে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে পূর্বের সমঝোতাকে কার্যত অকার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়নি।



