আন্তর্জাতিক

দাবানলে জ্বলছে ইউরোপ : এবার হুমকিতে এথেন্স

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইউরোপজুড়ে চলমান দাবানল সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন গ্রিসে। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় আগুন রাজধানী এথেন্সের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে এলেও বিশাল এলাকা এখনো জ্বলছে। আর স্পেনে বড় দাবানলগুলোর বিস্তার আপাতত থেমে গেছে। রোববার পশ্চিম আট্টিকা অঞ্চলে ঝোড়ো বাতাসের কারণে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাজধানী এথেন্সের উপকণ্ঠের কয়েকটি গ্রাম এবং মেগারা শহরের কাছে একটি শিল্পাঞ্চল হুমকির মুখে পড়ে। তীব্র বাতাসের কারণে অগ্নিনির্বাপণ বিমানগুলো সমুদ্র থেকে পানি তুলতেও সমস্যায় পড়ছে। গ্রিসের কর্তৃপক্ষ কান্দিলি, আগিয়া স্কেপি ও তুতুলি এই তিনটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগুন গেরানেইয়া পর্বতমালা পেরিয়ে করিন্থ উপসাগরের তীরবর্তী পোর্তো জেরমেনো এলাকার দিকেও এগোচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৫০০ দমকলকর্মী ও ২৩টি বিমান কাজ করছে। তবে ঝোড়ো বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। শুক্রবার আগুন লাগার পর সমুদ্রপথে আগিওস ভাসিলিওস এলাকা থেকে ২৫৪ জন এবং শনিবার পোর্তো জেরমেনো থেকে আরও ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়। গ্রিসের দাবানল বিষয়ক আবহাওয়াবিদ থিওদোরোস জিয়ান্নারোস জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত আগুনে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে গেছে, যদিও সরকারিভাবে এখনো কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় কৃষক মিনাস জর্জানিস বলেন, ‘স্বর্গের মতো একটি বন আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে। কী হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। চারদিকে শুধু ধ্বংসযজ্ঞ।’ গ্রিসে এই পরিস্থিতি ২০১৮ সালের ভয়াবহ মাতি দাবানলের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সেবার এথেন্সের পূর্ব উপকূলে দাবানলে ১০৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা চলতি শতাব্দীতে ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানল হিসেবে বিবেচিত। ফ্রান্স ও স্পেনের পরিস্থিতি ঃ ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ অঞ্চলের দাবানল আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও আগুন পুরোপুরি নেভেনি। মাত্র ১০ দিনে প্রায় ৪২০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি পুড়ে গেছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের বিস্তার থেমেছে, তবে বিভিন্ন স্থানে এখনো আগুন জ্বলছে। অঞ্চলটিতে দেশের সর্বোচ্চ রেড ফরেস্ট ফায়ার অ্যালার্ট বহাল রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা শান্তিকালীন সময়ে ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণ-উচ্ছেদগুলোর একটি বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্পেনে বড় দাবানলগুলোর বিস্তার আপাতত বন্ধ হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো নজরদারি ও আগুন সম্পূর্ণ নেভানোর কাজ চলছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button