দৌলতপুর বাজারের নির্বাচন : আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারী

# কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনায় পূর্বের মতো নির্বাচন স্থাগিত না হয় : হুঁশিয়ারী প্রার্থীদের #
# এবার নির্বাচনে বিশৃঙ্খলাকারীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবো : ওসি দৌলতপুর থানা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ অবশেষে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) পুনরায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে স্থগিত হওয়া দৌলতপুর বাজার বণিক সমিতি (রেজি:নং-২৫১০)’র ত্রি-বার্ষিক সাধারন নির্বাচন বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান শেখ মুর্শারফ হোসেন। ইতোমধ্যে নির্ধারিত সময়ের নির্বাচনকে সামনে রেখে পুনরায় সকল প্রস্তুতি গ্রহন করতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটারদের ছবি যুক্ত আই.ডি কার্ড সম্পন্ন করাসহ ভোটারদের কাছে কার্ড পৌছে দেওয়া। নির্বাচনের দিন নির্ধারিত সময়ে ভোট গ্রহন নিশ্চিত করা। নির্বাচনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা নিয়োজিত রাখা। স্ক্রীন পর্দার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করাসহ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষনের জন্য দায়িত্বশীল একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। যারা ২৪ ঘন্টা নির্বাচনী কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করবেন। নির্বাচনকে ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাগ্রহন করাসহ বিবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করা। এবার কঠোর অবস্থানে থেকে নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা। ব্যবসায়ী রেজাউল জানান, নির্বাচনের কারণে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা থাকলেও আমি বিশ^াস করি একে অপরের সাথে সু-সম্পর্ক রয়েছে। সুতারং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন কারো সাথে সম্পর্কের অবনতি না করে দিকে সকলের লক্ষ্য রাখা উচিত। বাজারে যেন একটি সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন হয়, এটাই প্রত্যাশা। নির্বাচনের আগেও আমরা সবাই ভাই ভাই ছিলাম এবং নির্বাচনের পরেও সবাই আমরা ভাই ভাই হয়ে থাকতে চাই। যারা ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে কাজ করবে তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবো। ভোটার ও চা বিক্রেতা মীর হোসেন জানান, অপ্রত্যাশিত ঘটনায় গত ৩ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এটা দৌলতপুর বাজারের ইতিহাসের দুঃখ জনক ঘটনা। পুনরায় আবার ১৭ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে। এবার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নিকট আহ্বান করতে চাই, সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্বশীলতার সাথে নির্বাচন পরিচালনা করার। যেন পূর্বের মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। আমি আমার পছন্দের মতো প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে জয়যুক্ত করবো। যারা আমাদের এবং বাজারের উন্নয়নে কাজ করবে। ভোটার ও কসমেটিক্স ব্যবসায়ী কামরুল হোসেন এরশাদ জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও ছবিযুক্ত ভোটার কার্ডকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের অনাস্থার মুখে পড়ে ভোট স্থগিত হয়ে যায়। এতে প্রার্থীরা দারুন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তারপরও পুনরায় ১৭ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) বাজার সমিতির নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নিকট আহ্বান, যে কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে, এমন ঘটনা যেন নতুন করে না ঘটে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা। ভোট একটি পবিত্র আমানত। আমার ভোট আমি দেব, পছন্দের ও যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীকে দেব। প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা, যারা নির্বাচিত হবেন, তারা যেন বাজার ও ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে কাজ করা পাশাপাশি চাঁদাবাজমুক্ত ও মাদকমুক্ত একটি বাজার উপহার দেন।
সাবেক সাঃ সম্পাদক ও সভাপতি প্রার্থী আলহাজ¦ শেখ আসলাম জানান, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) যেন সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, নির্বাচন পরিচালনা কমিটিসহ প্রশাসনের কাছে এমনটাই ওয়া। যেন বহিরাগত এবং কিশোর গ্যাং নির্বাচনী এলাকায় ঢুকে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট না করতে পারে দিকে সংশ্লিষ্টদেরসহ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। পাশাপাশি প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, নির্বাচন করতে এসেছি, কারো সাথে সংঘাত বা দ্বন্দ করতে আসি নাই। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কারো সাথে যেন কোনো সংঘাত বা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি না হয় সেদিকে সকলের সজাগ দৃষ্টি দেওয়া উঠিত। নির্বাচনে যেই জয়লাভ করুন তাকে বিজয়ের মালা গলায় পড়িয়ে বাড়ী ফিরবো। সহ-সভাপতি প্রার্থী আশিকুর রহমান শুভ জানান, আমি বিশ^াস করি, আমরা সকলে যদি নির্বাচন পরিচালনা কমিটিসহ প্রশাসনকে সহযোগীতা করি তবে তারা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নিকট আহ্বান, যে ক্রুটির কারণে পূর্বের নির্বাচন স্থগিত হয়েছে, এমন ঘটনা যেন নতুন করে না ঘটে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখার। ব্যবসায়ীরা আমার প্রতি যদি বিশ^াস রেখে আমাকে নির্বাচিত করে তবে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মতামতের ভিত্তিতে নিরলস ভাবে কাজ করবো ইনশাল্লাহ।
সহ-সাঃ সম্পাদক মো. পলাশ শেখ জানান, নির্বাচন এক দিনের, কিন্তু সর্ম্পক সারা জীবনের। নির্বাচনকে ঘীরে আমরা যেন কারো সাথে সংঘাতে না জড়ায় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত। একটি অপ্রত্যাশিত কারণে গত ৩ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন স্থগিত হয়, এমন ঘটনা যেন নতুন করে ঘটে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টসহ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায়। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা যাকেই নির্বাচিত করবেন, অবশ্যই ভোটারদের রায় মেনে নেবো। আশাকরি ভোটররা আমাকে যোগ্য স¤œান ও মূল্যায়ন করবেন।
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাঃ সম্পাদক প্রার্থী এমএম জসিম জানান, ষড়যন্ত্র গত ৩ ফেব্রুয়ারী একটি সুষ্ঠু নির্বাচন বন্ধ করা হলো। কোন পেশীশক্তির কাছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হার মেনে নির্বাচন স্থগিত করলো, তা আমার বোধগম্য নয়। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) পুনরায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্থগিত হওয়া নির্বাচনের। তারপরও বলতে চাই, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য কমিটিকে সকলের সহযোগীতা করতে হবে। ভোট ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার, আমানত। ভোটররা তারা পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিবেন। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিচার বিশ্লেষন করে যেন মূল্যবান ভোটটি প্রদান করেন। আমি নির্বাচিত হয় বা না হয়, আমি দৌলতপুর বাজারের সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ী, শ্রমজীবি ও ভোটারদের পাশে অতিতে ছিলাম, বর্তমানে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। আমি নির্বাচিত হলে এই সম্ভবনাময় বাজারের সর্ব্বোচ উন্নয়নের জন্য কাজ করবো। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে চাওয়া থাকবে তারা যেন অতীত থেকে শিক্ষাগ্রহন করে এবার সমালোচনার উর্ধ্বে থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিবেন, এমনটাই প্রত্যাশা করি।
সাঃ সম্পাদক প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ বন্দ জানান, বাজারের নির্বাচনে কোনো বিশৃঙখলা চাই না। একটি সুন্দর পরিবেশে সুষ্ঠু ও সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য একটি নির্বাচন চাই। সেক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, যেন বাজারে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে দায়িত্বের সাথে ভূমিকা পালনের। পাশাপাশি বলতে চাই, যে বা যারা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জারালো দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের নিকট। আসন্ন নির্বাচনে আমি ভোটারদের নিকট দোয়া চাই, সমর্থন চাই।
দৌলতপুর বাজার বণিক সমিতি এডহক কমিটির আহ্বায়ক শেখ ইমাম হোসেন জানান, একটি অনাকাংক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৩ ফেব্রুয়ারী (সোমবার)’র চলমান ভোট গ্রহন প্রক্রিয়া বন্ধ করে নির্বাচন স্থগিত করা হয় । পুনরায় ১৭ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে। আমি শতভাগ আশাবাদী সকলের পুর্ন সহযোগীতা পেলে পুর্বের নেওয়া শিক্ষা হতে আসন্ন নির্বাচন যেন সর্বদিক দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারি। তিনি আরো জানান, প্রার্থীদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিতসহ সার্বিক দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা হবে। এবার আমরা কঠোর অবস্থানে থাকবো। কেউ নির্বাচন ও নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান শেখ মুশার্রফ হোসেন জানান, ছবিযুক্ত ভোটার কার্ড সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গত, ৩ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায় । এরপর জেডিএলসহ প্রার্থীদের সাথে নিয়ে কয়েকবার বৈঠক করা হয়ে। সকলের মতামতের ভিত্তিতে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) অনুষ্ঠিত হবে স্থগিত হওয়া নির্বাচন। এবার নির্বাচনী কার্যক্রম শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রন করতে প্রস্তুত আমরা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা তৈরী না করতে পারে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা হবে। মাঠে নিয়োজিত থাকবে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা।। স্ক্রীন পর্দার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষনের জন্য ইতোমধ্যে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। যারা ২৪ ঘন্টা নির্বাচনী কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করবেন। নির্বাচনকে ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাগ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মীর আতাহার আলী জানান, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা একটি পার্ট। কেবলমাত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন করাই আমাদের প্রধান কাজ। গত ৩ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে আমরা আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলাম এবারও আরো শক্ত অবস্থানে থাকবে। যদি কেউ নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করেন, তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) দৌলতপুর বাজার বণিক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সাধারণ নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। নির্বাচন স্থগিতের কারণ হিসাবে ভোটাররা ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র না থাকা, বিলম্বে ভোট গ্রহণ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বের প্রতি অবহেলাসহ নানান অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীসহ সর্বমহল। অনুষ্ঠতব্য নির্বাচনে ১০টি পদের বিপরীতে ভোটের মাধ্যমে ১৮ জন প্রার্থী নির্বাচিত হবেন। আরো উল্লেখ্য, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও এডহক কমিটির আহ্বায়কসহ ২১জন সদস্য নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।
