জাতীয় গ্রীড বিপর্যয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা অন্ধকারে

# খুলনায় সন্ধ্যা থেকে স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন
স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় গ্রীড বিপর্যয় হওয়ার কারণে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর (ওজোপাডিকো) আওতাধীন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বিদ্যুৎহীন রয়েছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল) বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে জাতীয় গ্রীড বিপর্যয়ের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়ে এই অঞ্চলের মানুষ। ওজোপাডিকো সূত্রে জানা যায়, জাতীয় গ্রীড বিপর্যয়ের কারণে বিকাল ৫ টা ৫০ মিনিটে ১৫ জেলার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে সন্ধ্যা ৭ পর থেকে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় খুলনা, বরিশাল বিভাগসহ পদ্মার এপারের ১৫ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। খুলনা, বরিশাল, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে গোটা দক্ষিণাঞ্চল। অনেক স্থানে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা মেলেনি। আবার কিছু কিছু স্থানে বিদ্যুৎ এসেছে। খুলনার নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ জানান, নগরীর ময়লাপোতার মোড়ে বিকাল থেকে আছি। সাড়ে ৫টার পর এখানে বিদ্যুৎ চলে যায়। রাত ৭টা ৫০ মিনিটে একবার বিদ্যুৎ আসে। পরে আবার ৮টা ১৬ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যায়। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। এদিকে বিদ্যুৎতের বিপর্যয়ে খুলনা মহানগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্ধাকারাছন্ন হয়ে পড়ে। নগরীর দোলখোলা, রায়পাড়া, দক্ষিণ টুটপাড়া, রূপসা, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচ- গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। শিশু, বয়স্ক, শিক্ষার্থীসহ সব বয়সের মানুষ গরমে অস্থির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং মসজিদ গুলোতে নামাজ আদায়েও মুসল্লিরা নাকাল হয়ে পড়েন। অনেকেই ঘর ছেড়ে বাইরের সড়কে, ছাদসহ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন। একই সাথে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মটর বন্ধ থাকায় সব বাসা বাড়ীতে নাওয়া-খাওয়া সাময়িক দূর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরাও দূর্ভোগে পড়ে।
এ ব্যাপারে তানিয়া রহমান নামের এক অভিভাবক জানান, বাচ্চার বয়স এক বছর। দীর্ঘক্ষন বিদ্যুৎ না থাকায় মটর দিয়ে পানি তুলতে পারি নাই, যে কারণে বাচ্চাকে গোসলও করাতে পারি নাই। এখন অধিকাংশ বাসা-বাড়ীতে বিদ্যুৎতের চুলায় রান্না করে। বিদ্যুৎ না থাকায় রান্না-বান্নায়ও ব্যাঘাত ঘটেছে। এমন গরম পড়ছে, বাচার উপায় নাই, তারপর আবার বিদ্যুৎতের দূর্ভোগ।
স্কুল শিক্ষার্থী তাসনিমুর রহমান আরিক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় পড়তে বসতে পারি নাই। ঘরের ভেতর প্রচুর গরম। ফ্যান না চালিয়ে বসা যায় না, ঘাম ছাড়ে। বিদ্যুৎ ছিল না, তাই বাইরে গিয়ে বসে ছিলাম।
খুলনার রূপসা উপজেলার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিকালে বিদ্যুৎ চলে যায়। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি। প্রচন্ড গরমে নাজেহাল হতে হয়েছে। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শাহাজাৎপুরের শুভ বিশ্বাস জানান, বিকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা মেলেনি। প্রচন্ড গরমে দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওজোপাডিকোর সদর দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক (পরিচালন) মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, ৫ টা ৫০ মিনিটে ঢাকার আমিন বাজার থেকে গোপালগঞ্জের মধ্যবর্তী কোন একটি স্থানে ৪০০ কেভি লাইনের ত্রুটি দেখা দেয়। প্রায় সোয়া একঘন্টা খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুরসহ ১৫ জেলায় বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৮টার দিকে খুলনা, বরিশালের অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।



