আলিয়া-কওমীয়া আলেমদেরকে সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে -মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

আনোয়ারুল উলুম কওমীয়া মাদরাসায় মতবিনিময়
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, জামায়াত সব মারকাজের আলেমদেরকে একত্রিত করে সবাইকে ধন্য করেছেন। আমাদের এই ঐক্য বা হাজারো ঐক্য কোনও কাজে আসবে না, যদি আমরা ব্যালটের যুদ্ধে একত্রিত হতে না পারি। আমাদের দেশ গণতান্ত্রিক দেশ। তাই আমাদেরকে গণতান্ত্রিক সিস্টেমে আগাতে হবে।’ তিনি বলেন, বাতিল সর্বদা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু আমাদের মাঝে হাজারো মতবিরোধ। এখন সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ এখন থেকে আমরা সবাই একে অপরের জন্য। সবাই সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ থাকবো, ইনশাআল্লাহ। বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে খুলনা-৬ আসনের পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের হরিদাসকাটি আনোয়ারুল উলুম কওমীয়া মাদরাসায় শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
এ সময় পাইকগাছা উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা বুলবুল আহম্মেদ, সেক্রেটারি মো. আলতাফ হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবু জার গিফারী, বায়তুলমাল সম্পাদক ইয়াসিন শারাফাত, পাইকগাছা উত্তর থানার সেক্রেটারি ইয়াসিন সরকার, হরিঢালী ইউনিয়ন আমীর আতাউর রহমান, সেক্রেটারি হুসাইন আহম্মেদ, সহকারি সেক্রেটারি মো. আসলাম বিশ্বাস, ৪ নং হরিদাসকাটি ওয়ার্ডের সভাপতি মুজিবর ফকির, সেক্রেটারি ডা. হাসানুজ্জামান, বায়তুলমাল সম্পাদক ডা. এনামুল হক, আনোয়ারুল উলুম কওমীয়া মাদরাসার মুহাতামিম মাওলানা আকবার হুসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা-৬ আসনের এই এমপি প্রার্থী আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও ইসলামী ধারার রাজনৈতিক দল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াতে ইসলামী দেশে অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করে ইসলামের খেদমত করে যাচ্ছে। জামায়াতের বহু নেতাকর্মী ও শুভাকাকাঙ্ক্ষী কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্বীনী খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা বা কর্মী কোনোদিন কওমী দেওবন্দী কিংবা সুন্নিয়াত মাদরাসার বিরোধিতা করে নাই। তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর দুইজন মন্ত্রী ক্ষমতায় ছিলেন। তারা কওমী, দেওবন্দী ও সুন্নিয়াত মাদরাসার বিরোধিতা করেছেন, এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না। বরং তারা ওই ধরনের মাদরাসাকে মুক্ত হস্তে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের মানুষ একটি ইসলামী রাষ্ট্র দেখতে চায়। জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। আমাদের লক্ষ্য, জনগণের সেবা করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা।
তিনি স্থানীয় রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, কয়রা-পাইকগাছায় বহু কিছু দেখা গেলেও কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি। মানুষ আর চাঁদাবাজ বা জালেমের রাজত্ব দেখতে চায় না। আমরা সবার একযোগে কাজ করলে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।



