হাসিনার আমলে প্রথম জন-নিরাপত্তা আইনের মামলা হয় আমার নামে

# সাবেক ছাত্র নেতা : আসাদুজ্জামান মুরাদ’র সাক্ষাতকার #
# জেল কতবার খেটেছি হিসাব নেই মামলা ছিল শতাধিক
স্টাফ রিপোর্টার: তৎকালীন হাসিনা সরকারের আমলে সর্বপ্রথম জননিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি,মহানগর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হাসিনার সময়ে সেই জন নিরাপত্তা আইনের মামলায় আমিই সর্বপ্রথম আসামী। তখনও কিন্তু আইনটা পরিপূর্ন আইনে রূপান্তরিত হয়নি। আইনে জামিন ছিলো না। তিন মাসের মধ্যে বিচার কার্যকর করা হতো। আমি আত্মসমর্পণ করলাম। ১৪ জনকে ১৪ বছরের জোর পূর্বক সাজা দেওয়া হলো। বাকী ৭ জনকে খালাস দেওয়া হলো। আর জেল যে কতবার খেটেছি তার কোন হিসাব নাই। মামলাতো ছিলো অগণিত। এরমধ্যে ৬০টির মত ডাইরেক্ট মামলা। একটা মামলা ভেঙ্গে ২ থেকে ৩ বারও মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। মামলার সংখ্যা প্রায় শ’খানেকের কাছাকাছি চলে গেছে। সেসময় পুলিশের যে অত্যাচার চালিয়েছে সেগুলো এখন মনে পড়লে অনেক কষ্ট লাগে। আজকে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে যদি জুলাই-আগস্ট না হতো তাহলে আমাদের পরিবারের খুবই খারাপ অবস্থা হতো। জুলাই আগস্টের পরে বাংলাদেশের মানুষ নাভিশ্বাস ছেড়েছে। আজ মিডিয়ার সামনে যে সাক্ষাৎকার দিচ্ছি জুলাই আগস্ট না হতো তাহলে কিন্তু সম্ভব ছিলো না। অনেক আগেই আমার সোনালী অতিত ছাত্র রাজনীতির অধ্যায় শেষ হয়েছে।
ছাত্র দলের সেই সোনালী অতীত খুব মনে পড়ে,আমি ১৯৮৭ সালে এসএসসি পাশ করার পর ১৯ এবং ২০ ওয়ার্ডে ছাত্রদলের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহবায়ক ছিলাম। এরপর সোনাডাঙ্গা থানা ছাত্র দলের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহবায়ক ছিলাম। পরবর্তিতে সিটি কলেজে ভর্তি হয়ে সেখানেই ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করি। একাদশ বাণিজ্য বিভাগের আহবায়ক নির্বাচিত হই। তারপর কলেজ কমিটির যুগ্ম আহবায়ক হই। পরে কলেজ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলাম। তারপর ৯১-৯২ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়ে সিটি কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচন করে বিপুল ভোটে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা আমাকে ভিপি নির্বাচিত করে। তৎকালিন সময়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেছি। এরপর ছাত্র দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হই। পরে আবারও নির্বাচিত হই। জেলা ছাত্র দলের সেক্রেটারি ছিলাম। এরপর আন্দলন সংগ্রামের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসলেন। কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। এরপর সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির ছাত্র দলের প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রগনি ভূমিকায় ছিলাম। তৎকালিন সময়ে শিববাড়ি মোড় ছিলো আন্দোলনের প্রাণ কেন্দ্র। সেই প্রাণ কেন্দ্রের দায়িত্বটাই ছিলো আমার।
তিনি আরও বলেন, এস এম মোরশেদ আলম, নুরু আনোয়ার আলী খোকন নেতৃবৃন্দের ছায়া তলে থেকেই আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। ছাত্র দলের সেক্রেটারি যখন ছিলাম।ছাত্রদলের রাজনীতির পরেই সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করি। এরপর মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক দায়িত্ব পালন করি। গেল ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার নির্যাতন জুলুম সহ্য করতে করতে হয়েছে।কত রাত কন কনে শিতের মধ্যে বাড়ীতে ঘুমাতে পারিনি। ঘেরের মধ্যে শীতের মধ্যে ঘুমাতে হতো। এসব এখন অতিত। আমাদের দিক থেকে সরকার বিরোধী প্রত্যেকটা আন্দোলন চালিয়ে গেছি। ফলে আমাদের নেতা তারেক রহমান আমাদের পুরস্কৃত করেছেন। আমরা যদি মাঠে ঘাটে না থাকতাম তাহলে আমাদেরকে পুরস্কৃত করতেন না। আমাদের মত আছেন যারা তারা প্রত্যোকে চেয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু মনোনয়ন পান। ন্যায়সঙ্গত যত দাবি ছিলো আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। খুলনা ২ আসনের জন্য একমাত্র নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে দরকার সেকারনেই তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। সবাইকে নিয়েই এই নির্বাচনের সময় পার করতে হবে। লাইফ টাই ইজ ভেরি শর্ট। কখন কে দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবে জানিনা। আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে একছাতার মধ্যে রাজনিতি করতে চাই।আমরা আশা করছি আমাদের নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু সুস্থ হলেই সে , রকিবুল ইসলাম বকুল আমরা সবাই একজায়গায় বসেই ধানের শীষে প্রচার প্রচারনা শুরু করবো। যারা দোষী সাব্যস্থ হয়েছে যাদের কাছে ভোট চাইতে গেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। তাদের পিছনে রেখেই আমরা এই কাজগুলো করবো।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু শুরু থেকেই বিএনপির রাজনীতি করি ভবিষ্যত পরিকল্পনা ত অবশ্যই আছে। সিনিয়রদের পালা ত শেষ পর্যায়ে এখনত তরুণদের পালা। জুনিয়র নেতৃবৃন্দকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিভিন্ন আসনে স্থান দিয়েছেন। আমাদেরকেও সেই আসনে স্থান দিবে বলে বিশ্বাস করি। সবাইকে নিয়েই ধানের শীষের পক্ষে প্রচারপ্রচারণা চালাবো। তবে, বর্তমানে আমরা কমিটিতে নাই। আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা আছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপি আছেন তারা বসে সিদ্ধান্ত নিলেই আমরা কাজগুলো করবো। পিআর পদ্ধতির বিষয়টি একটা সাংগঠনিক বিষয় । এটি যারা চাচ্ছে তাদের মাথার মধ্যে দুরভিসন্ধি চক্র আছে।আমার চাওয়া আমরা সবাই দেশ নায়েক তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে সামনের দিক এগিয়ে চলব।সকল কিছু ভুলে একই সাথে কাজ করব।



