স্থানীয় সংবাদ

খালিশপুর থানার এসআই পলাশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

প্রবাহে সংবাদ প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার : জোরপূর্বক টাকা আদায় ও মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকির অভিযোগে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) খালিশপুর থানার এসআই পলাশের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। বুধবার পলাশের বিরুদ্ধে দৈনিক প্রবাহে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন করে কেএমপি কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে খালিশপুর জোনের সহকারী কমিশনারকে (এসি)। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এসআই পলাশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক পুলিশিংয়ে বিশ্বাসী। কেউ যদি দায়িত্বের অপব্যবহার করে, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে জোরপূর্বক টাকা আদায় ও মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকির ঘটনায়
লিখিত অভিযোগ করেন গ্রেপ্তার লিটনের স্ত্রী রেহেনা পারভীন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমার স্বামী লিটন বাচ্চাদের জন্য খাবার কিনতে গিয়েছিলো। সেখান থেকে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে থানায় গিয়ে জানতে পারি, সে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তার কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা এসআই পলাশ সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে নেয়। পরে মোটরসাইকেল ও মোবাইল আনতে গেলে বলে, চাবি নিতে হলে আরও ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। আমি রাত ১২টা পর্যন্ত থানার সামনে বসে ছিলাম—আমার সঙ্গে কুকুরের মতো আচরণ করেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসআই পলাশ হুমকি দিয়েছে-এই কথা কাউকে বললে লিটনকে পুরনো মামলায় ফাঁসিয়ে দেবে। এ সংক্রান্ত পলাশের কয়েকটি ফোন রেকর্ড গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই অভিযোগের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। খুলনার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
অনেকে বলছেন, একজন পলাশের মতো অফিসারের কারণে পুরো পুলিশ বিভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে— যে থানায় এসআই পলাশ কর্মরত, সেই থানার জোনের এসির নেতৃত্বে তদন্ত হলে কি প্রকৃত সত্য সামনে আসবে? নাগরিক সমাজের অনেকে বলছেন, পুলিশের ভেতরকার কর্মকর্তার দ্বারাই যদি এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত হয়, তাহলে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন থেকেই যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button