ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা খুলনায় আন্দোলণের প্রস্তুতি

জুলাইয়ের সেই দিনগুলি-৩
এম সাইফুল ইসলাম ঃ চব্বিশের ৩ জুলাই বুধবার। ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে এদিনও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এই দিন আন্দোলনকারীরা ঢাকার শাহবাগ মোড় দেড় ঘণ্টার মতো অবরোধ করে রাখেন। একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন এবং সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন।
শিক্ষার্থীরা এদিন বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা। এর আগে বেলা দেড়টা থেকেই গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে খ- খ- মিছিল নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে আসেন তাঁরা। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী এ কর্মসূচি চলছে।
এর আগের দিন মঙ্গলবারও একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন–এর সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এক জিনিস নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোনো বংশগত পরম্পরার বিষয় নয়, এটা একটা রাষ্ট্রীয় আদর্শ। এই আদর্শকে আমরা তরুণেরা ধারণ করি। সে জন্যই আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছি।’
তবে জুন মাসের ৬ তারিখে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে পালিত কর্মসূচির পরে প্রকাশ্যে জনমত সৃষ্টি ও আন্দোলণ সংগঠিত হওয়া একটু কঠিন হয়ে পড়ে। তবে গোপনে গোপনে বেশ তৎপর ওয়ে ওঠে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বিএল কলেজ, বয়রা মহিলা কলেজ, সিটি কলেজ, সুন্দরবন কলেজ, আজম খান কমার্স কলেজসহ গুরুত্বপূর্ন কলেজসমুহ। একটু বেশি ঝূকি নিয়েই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দারুল কোরআন সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা, আলীয়া মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ন প্রায় সকল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর আন্দোলণে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে। বাড়াতে চেষ্টা করে ঢাকার সাথে যোগাযোগ। এরই মধ্যে ঢাকার সাথে সমন্বয় করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদিন সম্পদ ও বিএল কলেজ শিক্ষার্থী সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি। পরবর্তীতে তাদের সাথে সংযুক্ত হয় আল শাহরিয়ার ও জহুরুল তানভীরসহ আরও কয়েকজন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরবর্তী বৈষম্য বিরোধি ছাত্র আন্দোলণের খুলনা মহানগর আহবায়ক আল শাহরিয়ার জানান, জুলাই এ আন্দোলণ হয়েছিলো আপামর ছাত্রজনতার। তবে খুবি ক্যাম্পাস থেকে প্রথম জুলাই মাসের কর্মসূচি শুরু হয়ে। তবে এর আগে প্রেসক্লাবের সামেন একটা মানববন্ধন হয়।



