যমুনার ভাঙনে বিলীন ৬০০ একর জমি : নিঃস্ব ৬ গ্রামের মানুষ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে বসতবাড়ির পাশাপাশি প্রায় ৬০০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে অন্তত ছয় গ্রামের শত শত পরিবার ভিটেমাটি ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে যমুনার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চলতি বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসি ও বারপাখিয়া এবং গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও বৃহৎ হাতকোড়া গ্রামে ভাঙন শুরু হয়। জুনের মাঝামাঝি থেকে নদীর পানি বাড়তে থাকায় ভাঙনের তীব্রতাও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, গত তিন মাসে সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর থেকে বারপাখিয়া পর্যন্ত ছয়টি গ্রামের প্রায় ৩০০ বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া যমুনার ভাঙনে প্রায় ২৫০ হেক্টর বা ৬০০ একরের বেশি ফসলি জমির পাশাপাশি মসজিদ ও মাদরাসাও নদীগর্ভে চলে গেছে। ধীতপুর গ্রামের ১০০ বছর বয়সী রহিতন বেগম নদীভাঙনে সব হারিয়ে এখন একটি জরাজীর্ণ টিনের ছাপরায় বিধবা মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন। সেই আশ্রয়টিও এখন নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। আক্ষেপ করে রহিতন বেগম বাংলানিউজকে বলেন, সারা জীবন কষ্ট করেই কাটিয়েছি। এখন শেষ বয়সে এসে যমুনার ভাঙনে বাড়িঘর হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আছি। থাকার মতো নিজের একটি ঘরও নেই। শাকপাতা তুলে আর বড়শিতে মাছ ধরে বিক্রি করেই মা-মেয়ের সংসার চলে। এ বয়সেও কোনো ভাতা কার্ড পাইনি। ধীতপুর জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল আলীম বলেন, চরাঞ্চলে পটল, বেগুন, ধান, বাদাম, মাষকলাই, সরিষা, বাঙ্গি ও ধনিয়াসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হতো। এসব ফসলই ছিল মানুষের প্রধান জীবিকার উৎস। কিন্তু বসতবাড়ি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অনেক পরিবার এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত এক বছরে দুটি ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের প্রায় ২৫০ হেক্টর, অর্থাৎ ৬১৭ একর ফসলি জমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। নতুন করে যেসব জমি ভাঙছে, সেগুলোর মালিকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে নদীর অভ্যন্তরের ভাঙন প্রতিরোধে বর্তমানে কোনো অনুমোদিত প্রকল্প নেই।



