স্থানীয় সংবাদ

হিজড়া জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা জরুরি

# বন্ধু ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্মশালায় বক্তারা #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বন্ধু মিডিয়া ফোরামের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার সকালে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার, সামাজিক বাস্তবতা এবং অধিকার বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মশালায় বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ কে এম আনিসুজ্জামান হিজড়া জনগোষ্ঠীর বর্তমান অবস্থা, তাদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য এবং আইনগত অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ৩২, ৪০ ও ৪২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক সমান আইনি সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা, পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকার ভোগের অধিকারী। হিজড়া জনগোষ্ঠীও এসব সাংবিধানিক অধিকারের সমান দাবিদার। কিন্তু বাস্তব জীবনে তারা নানা ধরনের বৈষম্য, সহিংসতা এবং কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ওরিয়েন্টেশনে বন্ধু মিডিয়া ফোরামের আহ্বায়ক খলিলুর রহমান সুমন, নক্ষত্র যুব মানবকল্যাণ সংস্থার সভাপতি জয়ীতা পাখি দত্ত, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির জান্নাতুল ফেরদৌস স্বর্ণা, আল আমিন শরীফ, সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হোসেন, হেদায়েত হোসেন মোল্লা, এএইচএম শামীমুজ্জামান, মাহবুবুর রহমান মুন্না, রীতা রাণী, মো. মিলন, দীপংকর রায়সহ গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে ইতিবাচক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের বিকল্প নেই। তাদের পরিচয়কে বিদ্রুপ বা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন না করে মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে একটি তথ্যপত্রও বিতরণ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, হিজড়া জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বৈষম্য বন্ধ, জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার সুরক্ষা, কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ এবং সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদসমূহ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি। অনুষ্ঠানের শেষে হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button