মালেশিয়ার প্রবাসি ব্যবসায়ীর নগদ অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়া মামলায় মা মেয়ে গ্রেফতার

# দৌলতপুরে ফেজবুকে প্রেমের সম্পর্ক #
স্টাফ রিপোর্টার : মালেশিয়ার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হকের সাথে ফেজবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে মা ও মেয়ে এবং মেয়ের কথিত পরকীয়া প্রেমিক মিলে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে তেষাট্টি লক্ষ টাকা এবং ১০/১২ ভরি স্বর্ণ অলংকার হাতিয়ে নিয়ে নানান ভয়ভীতি ও মেরে ফেলার অভিযোগে খুলনার দৌলতপুরস্থ দেয়ানা মধ্যপাড়া হাসপাতালে মোড় এলাকার বেকারী মালিক গোলাম এর বাড়ির ভাড়াটিয়া ফাল্গুনী (৩০) ও তার মা মিনু বেগমকে মঙ্গলবার সকালে দৌলতপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জানা যায় তোফাজ্জেল হক বগুড়ার আদমদিঘী থানার উৎরাইল গ্রামের বাসিন্দা তসিরউদ্দিন মন্ডলের ছেলে। মালেশিয়ার স্থায়ী ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হক ( ৫৭) এর সাথে প্রতারণা করে জমির জাল ও ভুয়া দলিল ও বায়না পত্র দলিল, আসবাপত্র ক্রয় করার কথা বলে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার কারণে ফাল্গুনী, ফাল্গুনীর মা মিনু বেগম, ফাল্গুনীর মামাতো বোন মিতু আক্তার ও আহম্মেদ বিন মুসা রাসেলের নাম উল্লেখ করে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঢাকা’তে মামলা দায়ের করেন এই প্রবাসী ব্যবসায়ী। মামলার বিবরনী অনুযায়ী জানা যায়, বগুড়ার বাসিন্দা ও মালেশিয়ার স্থায়ী ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হকের সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে ফাল্গুনীর সাথে ৩ মে-২০১৯ তারিখে পরিচয় হয়। সম্পর্কের তিন মাস অতিবাহিত হলে ফাল্গুগুনী এই ব্যবসায়ীর কাছে আর্থিক অনটনের কথা বলে মোবাইল বিকাশের ০১৪০৪৭১৭১৬০ নন্বরে মাধ্যেমে কিছু টাকা নেন। এছাড়া ফাল্গুনীর মা জর্ডানে অসুস্থ অবস্থায় আছে এবং আর্থিক অনটনের কারণে বাংলাদেশে আসতে পারছে না বলে ব্যবসায়ী তোফাজ্জেলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ২০২১ সালে ফাল্গুনীর মাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। এরপর থেকে ফাল্গুনী, ফাল্গুনীর মা ও ফাল্গুনীর মামাতো বোন মিতু আক্তারের সাথে ব্যবসায়ী তোফাজ্জেলের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একটা সময় ১ নং আসামী ফাল্গুনী ও ৩ নং আসামী ফাল্গুনীর মামাতো বোন মিতু আক্তার ব্যবসায়ীর কাছে থেকে নানা কৌশলে টাকা নিয়ে পরিবারের সকল খরচ বহন করতেন। ১৫মার্চ-২২ ফাল্গুনী ও ফাল্গুনীর মা মিনু বেগম ঢাকায় গিয়ে ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হকের সাথে ফাল্গুনীর সাথে ১ লক্ষ ১ হাজার টাকা দেন মহরে রেজিস্ট্রী কাবিন মূলে বিয়ে দেন। আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র ও উক্ত বিবাহ ছিলো একটি ফাঁদ তা ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হক বুঝতে পারেন নাই মর্মে জানান। তোফাজ্জলের এর সাথে ফাল্গুনীর বিয়ের পরে ফাল্গুনী ও ৩নং আসামী মিতু আক্তার ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল কে খুলনায় ভালো জমি পাওয়া যায় এবং খুলনায় জমি ক্রয় করিলে সুবিধা ও লাভজনক হবে বলে জমি কেনার জন্য উদ্বার করেন। ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল তাদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে জমি ক্রয় করতে সম্মত হন এবং জমি ক্রয় করার জন্য বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন তারিখে ১ নং আসামি ফাল্গুনীর মোবাইল বিকাশ নম্বরে এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড দৌলতপুর শাখা, খুলনা যার হিসাব নম্বর ৩১০১৫৮০০১৬২৯০ ও ডিবিএল ব্যাংকের মাধ্যেমে ৪০ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা প্রেরণ করেন। ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল বিয়ের আগে ও বিয়ের পরে বিকাশ ও ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যেমে আসামীদের কে ৬০ লক্ষ ৬২ হাজার ৮ শত ৩০ টাকা প্রদান করে। আসামিরা উক্ত টাকা উত্তোলন করে ব্যবসায়ী তোফাজ্জেলের নামে জমি ক্রয় করেছেন ও বায়না করবেন বলে জানান। এছাড়া ১ নং আসামী ফাল্গুনী ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য ৪০ হাজার ও ফার্ণিচার ক্রয় করার কথা বলে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করলেও সে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নেন নাই ও ফার্ণিচার ক্রয় করেননি। সে শুধু প্রতারণার মাধ্যেমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। ব্যবসায়ী তোফাজ্জেলের সাথে ফাল্গুনীর সম্পর্ক থাকা অবস্থায় ফাল্গুনীর মা ও ফাল্গুনীর মামাতো বোন মিতুর সহযোগিতায় ফাল্গুনী নতুন করে ৪নং আসামী রাসেলের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। ১৮ সেপ্টেম্বর-২৫ ফাল্গুনী ব্যবসায়ী তোফাজ্জেলের বাসায় আসেন এবং ২১ সেপ্টেম্বর-২৫ সুযোগ বুঝে ফাল্গুনী ও তার কথিত পরকীয়া প্রেমিক ব্যবসায়ীর টাকা পয়সা ও স্বর্ণ অলংকার নিয়ে পালিয়ে খুলনায় চলে আসেন। অত:পর ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল খুলনা এসে ফাল্গুনীর কাছে তার নামে ক্রয়কৃত জমির দলিল ও বায়না পত্র চাহিলে আসামীরা ডুমুরিয়ার সাব রেজিস্ট্রী অফিসের রেজিস্ট্রীকৃত ৩ টি সাফ কবলা দলিল ও বায়না পত্রের ফটোকপি প্রদান করেন। দলিলের মুল কপি চাইলে আসামীরা ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল কে নানান ধরনের অসংলগ্ন কথা বলেন। তখন বাদী তোফাজ্জেলের সন্দেহ হলে ডুমুরিয়া তহশীল অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে একে অপরের সহায়তায় ব্যবসায়ী তোফাজ্জেলের নামে জাল, ভুয়া দলিল সৃষ্টি করেছেন। সাব রেজিস্ট্রী অফিসে দলিল গুলোর কোন অস্তিত্ব নাই এবং বাদী তোফাজ্জেলের নামে কোন জমি নাই। ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হক তার নামে জাল, ভুয়া দলিল সৃষ্টির কথা জিজ্ঞাসা করলে তারা নানান ধরণের কথা বলে তখন ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল আসামীদের কাছে সমস্ত টাকা ফেরত চাইলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার ও খুলনায় পুনরায় না আসার হুমকি প্রদান করেন। এছাড়া ভবিষ্যতে কোন টাকা দাবী করলে বা জমির কথা বললে তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। দৌলতপুর থানার এস আই মোঃ সাইফুল জানান ওয়ারেন্টকৃত আসামী ফাল্গুনী ও তার মা মিনু বেগমকে গ্রেফতার করে খুলনার বিজ্ঞ চীফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়।



