ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে সিএন্ডবি, শ্রীঘাট ও পোলেরহাটে কৃষকরা কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না

চুলকাটি প্রতিনিধি
বাগেরহাট জেলার সিএন্ডবি, শ্রীঘাট ও পোলেরহাট বাজারে কৃষিপণ্য কেনাবেচায় অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি জমিতে ব্যাপক সবজির ফলন হয়েছে। মৎস্য ঘেরের পাড়ে লাউ, কুমড়ো করলা, শশাসহ, বিভিন্ন ধরণের সবজি আবাদ করা হয়েছে। এখানকার কৃষাণ-কৃষাণিরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলান। কৃষি উৎপাদিত পণ্যের পাইকারী বাজার হিসাবে সদর উপজেলার সিএন্ডবি, শ্রীঘাট ও পোলেরহাট বাজার উল্লেখযোগ্য। আর এ কারণেস্থানীয় ব্যবসায়ী , আঞ্চলিক ব্যবসায়ী ছাড়াও ঢাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চলের কাঁচামালের ব্যবসায়ীরা সরাসরি এখান থেকে কৃষি উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করে। যার কারণে এ তিনটি বাজার কাঁচামালের বড় আড়ৎ হিসাবে পরিচিত। এলাকার বিভিন্ন কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবার আশায় এসব বাজারে তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে আসে। এক সময় এসব বাজারে প্রতিযোগিতা মূলক বেচাকেনা থাকায় কৃষকরা ভাল মূল্য পেতেন। সম্প্রতি ২/৩ বছর ধরে বাইরের ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা এখন তাদের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। একদিকে কৃষকরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে ফসল উৎপাদন করে, অন্যদিকে অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে কৃষি ফসল ফলাচ্ছে। ফলে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের সে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। বাজারের যেখানে শশা খুচরা ৫০/৬০ টাকা করে কেজি বিক্রি হয়, সেখানে কৃষকরা পইকারী ৮/১০ টাকা করে প্রতি কেজি বিক্রি করছে। ৫০/৬০টাকা করে লাউ বিক্রি হলেও পাইকাররা কিনছে তাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ টাকা করে। এছাড়া করোলা আগে যেখানে ২ হাজার ২৫শ’ টাকা মণ বিক্রি হতো এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় চাষিদের বেঁচে থাকা দায় বলে হতাশা ব্যক্ত করেন অনেকে। এলাকার কৃষক আ: জলিল, আইয়ুব হতাশার সাথে জানান, যে আশা নিয়ে তারা কৃষি কাজ করেন, ফলন উঠার পরপরই ২/১ হাটে একটু ভাল বাজার পেলেও আস্তে আস্তে সবজির দাম পানির দামে নেমে আসে। এতে তাদের উৎপাদিত খরচ, ফসল কাটার খরচ সংকুলান হয় না। সিন্ডিকেট বিষয়ে তারা বলেন, বাইরের ব্যাপারীরা একজোট হয়ে দাম দর করে। তারা জোটবদ্ধ না হলে কৃষকরা আরও অধিকমূল্যে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারতো। এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা কৃষি অফিসার তন্ময় দত্ত জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত আছে। কৃষি বিপনন বিভাগ ও ভোক্তা অধিকার বিভাগ এগুলো মনিটারিং করে থাকেন। বাগেরহাট কৃষি বিপনন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার এ বিষয়ে জানান, “ এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি। জেলা প্রশাসকের গত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে এ বিষয়ে উত্থাপন করা হয়, সেখানে বাগেরহাট সদর আসনের এমপি শেখ মনজুরুল হক রাহাত ও জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিষ্টার শেখ মো: জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এ বিষয়ে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদারকি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বীথি জানান,“ এ বিষয়ে তিনি ভালভাবে খোজখবর নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।”
