বাগেরহাটে মাছ দেওয়ার কথা বলে কিশোরীকে ধর্ষণ, মামলা করায় বিপাকে পরিবার

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের মোংলায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করায় বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে মামলার একমাত্র আসামী সুমন শিকদারের চাচা আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে নির্যাতিত কিশোরীর নানা বাড়িতে গিয়ে হামলার চেষ্টা হয়েছে। মামলা তুলে না নিলে এলাকায় থাকতে পারবে না এমন হুমকি দিয়েছেন তারা। এমনকি মামলার বাদী কিশোরীর মামাকে ফোন করে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে তারা। এদিন দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নির্যাতিত ওই কিশোরীর মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কিশোরীর সাথে হাসপাতালে আসা মামা এই অভিযোগ করেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে মোংলা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিগন্যাল টাওয়ার এলাকার কাঞ্চন শিকদারের ছেলে সুমন শিকদারকে (৩৫) আসামী করে মোংলা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন কিশোরীর মামা। মামলার পর সুমনকে গ্রেপ্তার করে মোংলা থানা পুলিশ। শনিবার গ্রেপ্তার সুমনকে আদালতে সোপর্দ করে মোংলা থানা পুলিশ। মামলায় উল্লেখ করা হয়, গেল রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে মোংলা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিগন্যাল টাওয়ার এলাকায় শাপলা তুলতে গিয়েছিল কিশোরী। এ সময় সুমন শিকদার তাকে মাছ দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় একটি মাছের ঘেরের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি হবে বলে কিশোরীকে ভয় দেখানো হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানাতে ভয় পাওয়ায় কয়েক দিন ঘটনাটি গোপন রাখে কিশোরী। শুক্রবার অসুস্থ হয়ে পড়লে কিশোরীর মামী বিষয়টি জানতে চান। একপর্যায়ে কিশোরী ঘটনার কথা জানান। ওই কিশোরীর মামা বলেন, ছোট বেলায় তার ভাগ্নির বাবা মা মারা যায়। মা-বাবা ছাড়া ছোট্ট ওই শিশু তাদের বাড়িতেই বড় হয়েছে। লোক লজ্জা ও সুমনের ভয়ে ওই শিশু কাউকে বিষয়টি জানায়নি। তবে যখন জানাজানি হয়, তখন তিনি মামলা করেন। মামলার পর থেকেই সুমনের পরিবারের লোকজন তাকে হুমকি দিচ্ছে। মামলা না উঠালে এলাকায় থাকতে পারবা না, সুমনদের ক্ষমতা আছে এমন কথাও বলেছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে এসেছি ভাগ্নিকে নিয়ে। ছোট ভাই মাত্র ফোন করে জানালো সুমনের চাচা আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করতেছে। বৃদ্ধ বাবা-মা ভয়ে ঘরের দরজা আটকে ভিতরে রয়েছে। মামলা তুলে না নিলে এখান থেকে বাড়ি সরিয়ে নিতে হবে এমন হুমকি দিয়ে তারা চলে এসেছে। বাবা-মা হারানো এই শিশু যদি বিচার না পায় তাহলে কোথায় যাব এই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মামলার বাদী কিশোরীর মামা। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে। মামলার বাদী ও তার পরিবারকে হুমকির বিষয়ে ওসি বলেন, এমন ঘটনা ঘটেনি। তারপরও খোঁজ নিয়ে দেখছি। যদি কেউ এটা করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



