স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়ংকর রূপ পরিস্থিতিকে ‘মহামারি’ ঘোষণার দাবি

কেসিসি’র ক্রাশ প্রেগ্রামের আওতায় চলছে বাড়ির আঙ্গিনায় অভিযান, জরিমানা
নগরীর চারটি ওয়ার্ডকে রেড, পাঁচটি ওয়ার্ডকে কমলা ও চারটি ওয়ার্ডকে হলুদ জোন ঘোষণা
খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ১৯৬ : চলতি বছরে মৃত্যু ১৬

স্টাফ রিপোর্টার : ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নগরীর বড় মির্জাপুর এলাকার গৃহবধূ শামীমা ইয়াসমিন পলি (৪০) বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে গাজী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। দোয়া (৯) ও দিনি (৬) নামে দুইজন শিশু কন্যা সন্তান রয়েছে তার। গত ১৫ আগস্ট পলির ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্ত হয়। তাৎক্ষণিক তাকে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এভাবে গত এক সপ্তাহেই জেলায় একজন আইনজীবীসহ অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকসহ অনেকে।
সূত্র জানিয়েছে, খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে রয়েছে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। আক্রান্ত এবং মৃত্যু বাড়ায় নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন ফোরাম থেকে পরিস্থিতিকে মহামারি ঘোষণা এবং কার্যকর জোরালো পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপে বাড়ায় সরকারি-বেসরকারি সকল হাসপাতালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে শয্যা সংকটের। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫০০ তে উন্নীত করা হলেও রোগীর চাপ ৫ গুনেরও বেশি। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। একই অবস্থা অপর সরকারি জেনারেল হাসপাতালেও। একইভাবে খালি নেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোও। ফলে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনরা।
এদিকে, আগস্ট মাসজুড়ে খুলনায় ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে খুলনা মহানগরীর ৩০, ২৯, ২৮ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের জন্য এ চারটি ওয়ার্ডকে রেড জোন বা ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
কেসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, ৩০, ২৯, ২৮ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে বেশি সেখানে মশক নিধনে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মশার লার্ভা জন্মানোর মতো নোংরা পরিবেশ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে।
কেসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ১৩ আগস্ট পর্যন্ত নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১০০ জন। পাশাপাশি রেড জোনে থাকা ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৮০ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন। এর বাইরে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ১৭, ১৮, ২৩, ২৪ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পাঁচ ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬৮। কম ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা ১৫, ২০, ২৫ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ১১৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
ডেঙ্গুর প্রকোপে খুলনা জেনারেল হাসপাতাল তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। হাসপাতালের দুটি মেডিসিন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মাত্র ২৫টি শয্যা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে ৬১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই চাপ পুরো হাসপাতাল জুড়েই বিস্তৃত, যেখানে ১১০টি শয্যার বিপরীতে ১৬২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, ফলে কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বাইরেও অনেককে জায়গা দিতে হচ্ছে।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. রফিকুল ইসলাম গাজী বলেন, বহির্বিভাগে আসা রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশই জ্বরে ভুগছেন। হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও শয্যার অভাব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিস্থিতিও একই রকম, যেখানে মেডিসিন ওয়ার্ডের ৪০টি শয্যার বিপরীতে ১১৩ জন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা চলছিল। ডেঙ্গু রোগীদেরও শিশু ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে, আর জায়গার অভাবে অন্যদের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোও রোগী জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ১৫টি শয্যাই পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ১৯টি কেবিনকে রূপান্তরিত করে। এরপরও শয্যা খালি না থাকায় প্রায় ১০ জন রোগীকে ভর্তি না হয়েই ফিরে যেতে হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক মোস্তফা কামাল।
ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ২২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গত তিনদিন আগে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে খুলনার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য বেড খুঁজেছি। কোথাও কোনো বেড খালি না পেয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি এখানেও বেড নাই। তাই এই বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছি।
ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত সুজাতা বলেন, আমি ২৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গত দুইদিন আগে আমার ডেঙ্গু ধরা পড়ে এরপর সিটি মেডিকেল সহ কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করে বেড না পেয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই। এখানেও বেড খালি নেই তাই চিকিৎসার জন্য বারান্দায় থাকতে হচ্ছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগী বেশি হলেও চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। ওষুধ, কিট পর্যাপ্ত। রোগীর চাপ আরও বাড়লে নিচতলায় জরুরি বিভাগে পৃথক ইউনিট খোলার প্রস্তুতি আছে। এ হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা থেকে উন্নত করে ৫০০ শয্যা করা হলেও বর্তমানে প্রায় ২৮০০ থেকে ২৯০০ রোগী রয়েছে। এতে শয্যা সংকটের সাথে সাথে ডাক্তার সহ অন্যান্য লোকবল সংকট দেখা দিয়েছে।
কলেজ ছাত্রী মৌলি মল্লিকের প্রচ- জ্বর হলে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসকরা প্রথমে টাইফয়েড ও অন্যান্য অসুস্থতার পরীক্ষা করার পর ডেঙ্গু নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “আমার টাইফয়েড বা একই ধরনের উপসর্গযুক্ত অন্য কোনো অসুখ হয়েছে কিনা, তা নির্ণয় করতে ডাক্তাররা পরীক্ষা করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আমার ডেঙ্গু হয়েছিল”। যদিও তিনি কিছুটা সেরে উঠেছেন, মৌলি জানিয়েছেন যে তীব্র শরীর ব্যথা ও অন্যান্য জটিলতা এখনও তার পড়াশোনায় প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে তানভীর সোহেলকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।
তিনি বললেন, “আমি নিয়মিত মশারির নিচে ঘুমাতাম এবং মশা তাড়ানোর স্প্রে ব্যবহার করতাম। কিন্তু আমি এখনও বুঝতে পারছি না কীভাবে আমি সংক্রমিত হলাম”। ওষুধ বাবদ তার ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং তিনি কবে পুরোপুরি সুস্থ হবেন সে বিষয়ে অনিশ্চিত।
এদিকে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করার পর কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, পরিস্থিতি দেখে তিনি শঙ্কিত হয়েছেন। “বেশ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করার পর পরিস্থিতি দেখে আমরা হতবাক হয়েছি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া আর কোনো হাসপাতালেই একটিও খালি শয্যা নেই”।
সিটি কর্পোরেশন খুলনার ৩১টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে এবং মশা নিয়ন্ত্রণ অভিযান তদারকির জন্য তিনজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে। সংস্থাটি সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চালানো, লিফলেট বিতরণ এবং লাউডস্পিকারের মাধ্যমে জনঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছে। কর্তৃপক্ষ দিনে দুইবার কীটনাশক স্প্রে ও ফগিং অভিযান চালাচ্ছে এবং একই সাথে ডেঙ্গুর হটস্পট ও মশার প্রজনন ক্ষেত্র শনাক্ত করার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। রোগটির বিস্তার রোধে জনগণের জোরালো অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রজনন ক্ষেত্রগুলো নির্মূল করার জন্যও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্পোরেশনটি সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে ইমাম, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মযাজকসহ ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও করছে।
তবে, খুলনা নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন তুহীন গণমাধ্যমকে বলেন, “বর্ষার শুরু থেকেই মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি বলেন, বাসিন্দাদেরও নিয়মিত নিজেদের বাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার করতে হবে এবং জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে, যেখানে এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
কেসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, ৩০, ২৯, ২৮ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে বেশি। এ জন্য এই চার ওয়ার্ডকে রেড জোন বা ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে মশক নিধনে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মশার লার্ভা জন্মানোর মতো নোংরা পরিবেশ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে। মশক নিধনে বিশেষ কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্থাপনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে গত শনিবার থেকে কেসিসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। বাড়ির আঙ্গিনায় গত কয়েকদিনের অভিযানে বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে পরিষ্কার রাখার লিখিত অঙ্গীকার নেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জরিমানাও করা হয়েছে অনেক বাড়ি মালিককে।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, এখনই খুলনাকে মহামারি ও বিশেষ জরুরী এলাকা ঘোষণা দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত। এ ঘোষণার মধ্যদিয়ে সরকারের যেসব জরুরী পদক্ষেপ রয়েছে অবিলম্বে তা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে মশা নিধন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম দুটোই একযোগে চালাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ডেঙ্গুর উপদ্রব বেড়েছে। মৌসুম আসার আগেই আমরা বারবার মশক নিধনে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছিলাম। কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যেটুকু মশক নিধন অভিযান চালানো হয়েছে, সেটিরও সুফল দেখা যাচ্ছে না।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি কুদরত ই খুদা বলেন, হাসপাতালে জায়গা নেই। সঠিক চিকিৎসা হচ্ছেনা। অবিলম্বে ‘মহামারি এলাকা’ ঘোষণা দিয়ে অন্য জেলা থেকে চিকিৎসক ও নার্স এনে চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা উচিৎ। এছাড়া খুলনার সকল চিৎিসক এবং প্রশাসক যৌথভাবে সমন্বয় মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি করোনাকালীন একটি হাসপাতালকে যেমন ডেলিগেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, এখনও একইভাবে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এ প্রতিবেদককে বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বিবেচনা করে চারটি ওয়ার্ডকে রেড, পাঁচটি ওয়ার্ডকে কমলা ও চারটি ওয়ার্ডকে হলুদ জোন ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০টি ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রের সাহায্যে মশক নিধন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত স্থান ও বড় নালার মশা মারতে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি হুইল ব্যারো ফগার মেশিন (ধোঁয়া দিয়ে মশা মারার যন্ত্র) ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কেসিসি তৎপরতা ও মশক নিধনে বিশেষ কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্থাপনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কেসিসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার থেকে স্লাম বা বস্তি এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হবে। এভাবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এরপর সকল রিপোর্ট বা সার্ভে করে জরুরী পরিস্থিতি বা মহামারী এলাকা ঘোষণার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের।
তবে, এখনও সেরকম পরিস্থিতি আসেনি- উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সামনে আরও দুই থেকে আড়াই মাস সময় রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন,
ডেঙ্গু সংক্রমণ হ্রাসে প্রায় দুই মাস পূর্ব থেকে প্রচেষ্টা শুরু করেও সফল হওয়া যায়নি। শহরের বেশকিছু এলাকায় ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী দুই মাস ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে কারণে আসন্ন এই দুই মাস বিশেষভাবে বাড়ির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর নজর দিতে হবে এবং মশার উৎসস্থল ধ্বংস করতে হবে।
সর্বশেষ : এদিকে, খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১৯৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৮৮ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৮ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়নি। পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর দপ্তর, খুলনা বিভাগ থেকে শনিবার (২২ আগস্ট) প্রকাশিত ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৪ হাজার ২৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫৭২ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৯ জন রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন খুলনা জেলায়। জেলায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ৮৫ জন। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১ জন। যশোরে নতুন ভর্তি হয়েছেন ১৭ জন, সাতক্ষীরায় ২ জন এবং চুয়াডাঙ্গায় ৩ জন। বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। চলতি বছরের শুরু থেকে খুলনা জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৭৭ জন। এ সময়ে ১ হাজার ৫৩ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২২২ জন। জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য প্রতিবেদনে নেই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরে মোট ৯৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৮১৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন, বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১৫৭ জন এবং ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাগেরহাটে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৯৮৪ জন। এর মধ্যে ৮৫৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন, ৯৮ জন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি এবং ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় ৩২ জন রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে। সাতক্ষীরায় চলতি বছরে মোট ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন, ৬ জন বর্তমানে ভর্তি এবং ১ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন; তাদের মধ্যে ৪৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ১৪ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যশোরে চলতি বছরে মোট ৪০৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন, ৩৪ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং ২ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া ঝিনাইদহে ৫৮ জন, মাগুরায় ৯৯ জন, নড়াইলে ১৫৯ জন, কুষ্টিয়ায় ৯৪ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১১ জন এবং মেহেরপুরে ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর দপ্তর, খুলনা বিভাগ, খুলনা থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার হিসাবে বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৯৬ জন হলেও একই সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button