স্থানীয় সংবাদ

জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত ছাড়াই তেরখাদায় দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বিক্রি

# টাকার বিনিময়ে মনোনয়নপত্র বিক্রিতে ক্ষুব্দ বিএনপি নেতা-কর্মীরা #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত ছাড়াই তেরখাদা উপজেলা বিএনপির দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মাঝে মনোনয়ন বিক্রি করেছে। দলীয় সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করে এ মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়েছে। এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আসন্ন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে তেরখাদা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ৪৬ জন ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা দিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। উপজেলা বিএনপি জেলা বিএনপির সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই এ কার্যক্রম করেছেন। এটা সাংগঠনিক ও গঠনতন্ত্র বিরোধী বলে জেলা বিএনপি দাবী করেছে। তারা এ অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জেলা বিএনপি নেতা মনিরুল হাসান বাপ্পী জানান। উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য মোল্লা মাহাবুর রহমান জানান, দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে একটা ইউনিয়নে দলের একজন করে প্রার্থী মনোনয়ন দিবে। সে জন্য মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করার জন্য দল এই মনোনয়নপত্র দিয়েছে। পরবর্তীতে যাদের জনসম্পৃক্ততা বেশী সেই লোকদের দল চিহ্নিত করে তাকেই দল মনোনয়ন দিবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের ফান্ডের জন্য প্রত্যেকের নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মানজুরুল আহসান দারু বলেন, মনোনয়ন ফরম থানা বিএনপির পক্ষ থেকে বিতরণ করা হয়। আমি সেখান থেকে একটি ফরম ক্রয় করি। ফরম প্রতি সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে রাখা হয়েছে। আমরা জেলা নয় থানা বিএনপির অধীনে। আমরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের ইলেকশন করবো। আমরা থানা বিএনপির সিদ্ধান্ত মেনে চলবো। ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এসএম মহিবুল্লাহ বলেন, ২০১৬ সালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করি। থানা কমিটির সিদ্ধান্তে ফরম বিতরণ কাজে সম্পৃক্ত আমি ফরম সংগ্রহ করেছি। এতে থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপর খুশি। থানা বিএনপির অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয়, থানা বিএনপি একটি ফান্ড করার জন্য এ টাকা নিয়েছে। বারাসাত ইউনিয়ন দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী তারেক রেজা বলেন, আমি বারাসাত ইউনিয়ন থেকে দলীয় মনোয়নে নির্বাচন করতে আগ্রহী। উপজেলা বিএনপি যে ফান্ড তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে এতে তার কোন আপত্তি নেই। সেই জায়গা থেকে তিনি ৫ হাজার টাকা দিয়ে ফরম সংগ্রহ করছে। বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান (আজিবর) জানান, থানা বিএনপি ফরম বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে তিনি ৫ হাজার টাকা দিয়ে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন। টোটাল ৬টি ইউনিয়নে ৪৬টি ফরম বিক্রি হয়। বিএনপি নেতা সরদার আব্দুল মান্নান জানান, সবাই ফরম নিচ্ছে সে মতে আমিও ফরম ক্রয় করেছি। জেলা বিএনপির বিষয়ে আলোচনা করেছি জেলা বিএনপি বিষয়টি জানে না। আমি ফরম বিক্রির বিষয় জানি না। জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির নির্দেশনায় ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোয়ন ফরম বিক্রির করা হবে। কিন্তু তা টাকার বিনিময়ে হবে এমন সিদ্ধান্ত তাদের জানা নেই। দলের মনোনয়ন ফরমে বিক্রির কোন সিদ্ধান্ত আমরা কেন্দ্র থেকে পাইনি। ফরম বিক্রিতে অর্থনৈতিক লেনদেনের কোন সুযোগ নেই। এটা গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। যারা টাকা নিয়ে ফরম বিক্রি করেছে বিষয়টি তদন্ত করে সত্য হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তারা জানান। যারা টাকা নিয়েছে তারা এটা ঠিক করেনি। তারা ভূল করেছে। তারা যদি ভূল করে থাকে দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহবায়ক কওসার চৌধুরী বলেন, উপজেলা বিএনপির বর্ধিত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এবং সংসদ সদস্য আজিজুল বারি হেলালের নির্দেশনায় ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়। ৬টি ইউনিয়নের বিপরিতে ৪৫টি ফরম বিক্রি করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সাথে এ ব্যাপারে কোন আলোচনা হয়নি বলে তিনি জানান।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button