জাতীয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গের সিলেবাস থেকে মোগল ও মুসলিম ইতিহাস বাদ

চালু হচ্ছে গেরুয়া শিক্ষানীতি

প্রবাহ ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের সিলেবাসে গেরুয়া শিক্ষানীতি চালু হতে চলেছে। সিলেবাস থেকে বাদ মোগল ও মুসলিম ইতিহাস। আসতে চলেছে অশোক-শিবাজী-শ্যামাপ্রসাদের ইতিহাস।
মে মাসেই পশ্চিম রাজনীতিতে হয়েছে পালাবদল। ইতিমধ্যেই বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানান সংস্কারমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মোটকথা গেরুয়া শিক্ষানীতির তিনি সূচনা করতে চলেছেন। প্রায় ৫০ বছর পর আমূল সংস্কার প্রত্যক্ষ করবে এরাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রাক-প্রাথমিক (কএ) থেকে স্নাতকোত্তর (চএ) পর্যায়ে ভারতের জাতীয়তাবাদী ইতিহাসকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তৈরি হতে চলেছে নতুন পাঠক্রম। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে এই বিষয়ে কাজ শুরু করেছে শিক্ষা দপ্তর।
নতুন পাঠক্রমে কী কী অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে? চলতি সপ্তাহের শুরুতেই নবান্নে আরএসএস -এর শাখা সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের সাথে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হয়। এই বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছে গত ৫০ বছরে বাম ও তৃণমূল শাসনকালে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা অবনমনের কথা। তাই অবিলম্বে এরাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি লাগু করে দেশের প্রকৃত ইতিহাস আগামী প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তুলে ধরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এতদিন পাঠক্রমে মোঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস বড় করে পড়ানো হতো, তবে এবার তা সিলেবাস থেকে বাদ পড়তে চলেছে। সেই জায়গায় কৌটিল্য সম্রাট অশোক ও ছত্রপতি শিবাজীর মতো হিন্দু শাসকদের বীরত্বের কাহিনী ছাপা হবে ইতিহাস বইয়ের পাতায়। এর পাশাপাশি, জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও দেশ বিভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতে সংযুক্ত করার মূল উদ্যোক্তা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও বিশেষভাবে গুরুত্ব পেতে চলেছে নয়া সিলেবাসে। এরপর থেকে এরাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীরা তার অবদান পাঠ্যপুস্তকে পড়বে।
অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক গত বুধবার বৈঠক প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, গত পাঁচ দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিক ইতিহাস পড়ানো হয়নি। পাঠক্রমে মোঘল সম্রাটদের পরাক্রমের কাহিনীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে যদুনাথ সরকার, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা রমেশ চন্দ্র মজুমদারদের কীর্তি অবহেলিত হয়েছে। এই বাংলার বীর সন্তান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতে সংযুক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। সেখানে ২০ জুন উদযাপিত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এর ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে ভুল ভাবে উপস্থাপিত করা হয়েছে।
বাপি বাবু আরো বলেন যে, বামফ্রন্ট ক্ষমতায় থাকাকালীন অহেতুক কার্ল মার্ক্সকে গুরুত্ব দিয়ে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রকে উপেক্ষা করেছে। এর ফল ভুগছে নতুন প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা। আবার পরবর্তীতে তৃণমূলের সরকার বাংলা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইসলামীকরণের চেষ্টা করেছেন, তাই পাঠ্যপুস্তকে আকাশকে আসমান, জলকে পানি বা বাবাকে আব্বা লেখার চল শুরু হয়। নতুন সরকার পাঠক্রমে আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে বলে মহাসংঘকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে এরাজ্য তৈরি হবে পিএম শ্রী স্কুল। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণেরও সমস্ত ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার।
শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্নের তরফে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাবতীয় কমিটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেই সব স্থানে যোগ্য ও রাজনৈতিক প্রশাসকদের নিযুক্ত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া, খুব দ্রুত যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যাবে। রাজ্যের প্রগতিশীল এর নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ও ধর্মনিরপেক্ষ দল। তাদের মতে , এই গৈরিক শিক্ষা নীতি রাজ্যসরকার জোর করে ক্ষমতার বলে চাপিয়ে দিতে চাইছে। মোগল বা মুসলিম শাসকদের ইতিহাস মুছে দিতে চাইছে। এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button