দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো

প্রবাহ স্পোর্টস ডেস্ক ঃ ডেভিডের রেকর্ড হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয় কানাডার। বহু বছরের অপেক্ষা, অসংখ্য স্বপ্ন আর বারবার ব্যর্থতার হতাশা সবকিছুর অবসান হলো এক অবিস্মরণীয় রাতে। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেল কানাডা। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দেশটির তারকা ফরোয়ার্ড জনাথন ডেভিড। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজিত ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কাতারের বিপক্ষে মাঠে নেমেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে কানাডা। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করা দলটি শেষ পর্যন্ত ৬-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নেয়। এই জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন জনাথন ডেভিড, যিনি দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তোলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই কানাডার খেলোয়াড়দের চোখেমুখে ছিল জয়ের তীব্র ক্ষুধা। দর্শকদের গর্জনে অনুপ্রাণিত হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। ডেভিডের পাশাপাশি গোলের খাতায় নাম লেখান কাইল লারিন এবং নাথান সালিবা। কাতারের একটি আত্মঘাতী গোলও ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়। তবে এই আনন্দের রাতেও ছিল কিছুটা বেদনা। কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে গুরুতর চোটে মাঠ ছাড়েন। সেই মুহূর্তে পুরো স্টেডিয়াম যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সতীর্থরা জয় উৎসর্গ করেন আহত এই ফুটবলারের প্রতি। অন্যদিকে কাতারের জন্য রাতটি ছিল দুঃস্বপ্নের। ম্যাচে দুটি লাল কার্ড দেখে তারা নয়জনের দলে পরিণত হয়। সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে গোলের বন্যা বইয়ে দেয় কানাডা। বিশ্বকাপে এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ আসরে অংশ নিয়েও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি কানাডা। তাই এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বহুদিন ধরে যে স্বপ্নের কথা বলে আসছিলেন জনাথন ডেভিড ও তার সতীর্থরা, অবশেষে সেটিই বাস্তবে রূপ নিল। বিশ্বকাপের মঞ্চে কানাডার প্রথম জয়, তাও আবার ৬-০ গোলের বিধ্বংসী ব্যবধানে। আর এর নায়ক জনাথন ডেভিড যার পায়ের জাদুতে ফুটবলপ্রেমীরা দেখল কানাডিয়ান ফুটবলের নতুন এক উত্থানের গল্প।



