১৩ বছর বয়সেই বাবাকে ‘আদর্শ’ বলেছিলেন মেসি

প্রবাহ স্পোর্টস ডেস্ক ঃ হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে লিওনেল মেসির ১৩ বছর বয়সের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। সেই সাক্ষাৎকারে নিজের বাবাকেই জীবনের আদর্শ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। হোর্হে মেসির ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যুর পর নতুন তাৎপর্য পেয়েছে আর্কাইভে থাকা সাক্ষাৎকারটি। ২০০০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র লা কাপিতালের ‘পাসিওন রোহিনেগ্রা’ সাপ্লিমেন্টে প্রকাশিত হয়েছিল মেসির প্রথম সাক্ষাৎকার বলে পরিচিত এই লেখা। সম্প্রতি নিউয়েলস নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সাক্ষাৎকারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন সাংবাদিক এরিকা পিজুতো। তখন নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের বেলা ভিস্তা ট্রেনিং সেন্টারে বয়সভিত্তিক ফুটবল কাভার করছিলেন তিনি। সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে মাত্র ১৩ বছরের মেসি বয়সসুলভ লাজুকতা এবং তার বয়সের তুলনায় বিস্ময়কর পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছিলেন। মেসিকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তার আদর্শ কে, তখন এক মুহূর্তও না ভেবে দুজনের নাম বলেছিলেন তিনি। মেসির উত্তর ছিল, ‘আমার বাবা হোর্হে এবং আমার ধর্মপিতা ক্লদিও (আর্জেন্টানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট)।’ ফুটবলের অনুশীলন মাঠে মেসির শুরুর দিনগুলো থেকে বিশ্বকাপ জয়ের মঞ্চ পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারে বাবার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেই সম্পর্কের গভীরতাই যেন ফুটে উঠেছে ১৩ বছরের মেসির ওই সরল স্বীকারোক্তিতে। সাক্ষাৎকারটিতে সে সময়ের মেসির পছন্দ-অপছন্দের কথাও উঠে এসেছিল। ট্রপিক্যাল সংগীতের প্রতি তার ভালোবাসা এবং ভাষা ও সাহিত্যধর্মী শিল্পের প্রতি আগ্রহের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের একটি স্বপ্নের কথাও বলেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তিনি, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলা।’ হোর্হে মেসির মৃত্যু তাই মেসির জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যে বাবা ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তার পাশে ছিলেন, সেই মানুষটিকেই মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিজের আদর্শ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মেসি। মেসির শৈশবের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজও হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। ক্লাবটি তাদের বার্তায় উল্লেখ করেছে, ‘কঠোরতা ও ভালোবাসা’ দিয়ে হোর্হে মেসিই ‘ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ের’ ক্যারিয়ারে সমর্থন জুগিয়েছিলেন। নিউয়েলসের বয়সভিত্তিক দলের দশম বিভাগের সেই ছোট্ট ছেলেটি পরবর্তী সময়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন। আর ১৩ বছর বয়সে দেওয়া সেই ছোট্ট সাক্ষাৎকারে রেখে গেছেন তার বাবার সঙ্গে থাকা এক নিঃশর্ত সম্পর্কের সবচেয়ে নির্মল প্রতিচ্ছবি।



