সম্পাদকীয়

সাইবার আক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে : সচেতনতা বাড়াতে হবে

বর্তমান যুগ ইন্টারনেটের যুগ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়। তাই ইন্টারনেটের সাথে প্রত্যেক মানুষ এখন সম্পৃক্ত। অত্যাধুনিক তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের জীবন ব্যবস্থাকে অনেকটাই সহজ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে। প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তির নতুনত্ব আবিষ্কার অনেক কিছুকেই করেছে সহজলভ্য। তেমনইভাবে প্রযুক্তির কিছু ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানির ঘটনাও বেড়েছে কয়েকগুণ। মূলত ইন্টারনেটের সাইবার পরিসরকে ব্যবহার করার মাধ্যমে সাইবার অপরাধের বিভিন্ন দিক রয়েছে। বিশেষ করে আইডি হ্যাকিং, উগ্র ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য/অডিও/ভিডিও প্রচার, ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি, সাইবার বুলিং, শারীরিক অথবা মানসিকভাবে হেনস্তা করা, গোপন নথি ও প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, অনলাইন মাল্টি লেভেল মার্কেটিং প্রতারণা ও গ্যাম্বলিং, ই-মেইল, সামাজিক মাধ্যমে হুমকি প্রেরণ, চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং, পর্নোগ্রাফি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি, ওয়েবসাইট হ্যাকিং ইত্যাদি সাইবার অপরাধের জগতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। সিক্যাফ সাইবার অপরাধ প্রবণতা ২০২৪ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে অপরাধের হার দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। মোট অপরাধ ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পর পর দুই বছরের জরিপ ফল থেকে ১৮ বছরের কম বয়সি সাইবার আক্রান্ত শিশুদের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ভুক্তভোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৮ দশমিক ৭৮ শতাংশের বয়সই ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এছাড়াও আক্রান্তের ৫৯ শতাংশই নারী। অপরাধের ধরনের মধ্যে ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনে অ্যাকাউন্ট বেদখলের (হ্যাকিং) শিকার হয়ে শীর্ষে রয়েছে। আর বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে দেশে সাইবারজগতে ‘পর্নোগ্রাফি’ অপরাধ বৃদ্ধির প্রবণতা বেড়েছে। দেশে ৭০ শতাংশই সাইবার আক্রমণ হচ্ছে ব্যক্তি সচেতনতার অভাবে। আর ভুক্তভোগীদের ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন পর্ণোগ্রাাফিতে। দেশে দ্বিগুণ হারে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। ব্যক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি এবং প্রলোভনে প্রকট সাইবার অপরাধ। তবে সামাজিক লোক-লজ্জার ট্যাবুতে তা থাকছে অন্তরালেই। তাই গণসাইবার সাক্ষরতার পাশাপাশি দেশের সাইবার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণœ রাখতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নিজস্ব সাইবার সমাধান তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। সাইবার আক্রমণ বেশি হচ্ছে ব্যক্তিসচেতনতার অভাবে। তাই সবার সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button