সম্পাদকীয়

খাবার-সুপেয় পানি সরবরাহ করতে হবে

বন্যায় চরম দুর্ভোগে মানুষ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ। পানিবন্দি এসব মানুষের ঘরে খাবার নেই। খাবার রান্না করার মতো পরিস্থিতি নেই। পানিতে ভাসলেও পান করার মতো পানি নেই। তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে সারা দেশের মানুষ। তা সত্ত্বেও বানভাসি এসব মানুষের আহাজারি থামছে না। অনবরত তাদের চোখের পানি মিশে যাচ্ছে বানের পানিতে। নিজে অভুক্ত। কোলের শিশুটিও অভুক্ত। অসহায় মা তাকিয়ে আছেন কখন আসবে একটি মমতার হাত। ক্ষুধার জ¦ালা থেকে মুক্তি পাবে তাঁর নাড়ি কাটা ধন। বন্যাদুর্গত অনেক এলাকাই দুর্গম হয়ে উঠেছে। বাড়িঘরের মায়ায় কিংবা সহায়-সম্পদ চুরি হওয়ার ভয়ে অনেকে পানির মধ্যেই মাচা বানিয়ে আছেন। অনেকে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। সেসব এলাকার বানভাসিদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাচ্ছে অনেক কম। কোনো কোনো এলাকায় আদৌ কোনো ত্রাণসামগ্রীই পৌঁছায়নি। না সরকারি, না বেসরকারি। তাঁদের দিন কাটছে অনাহারে। পান করতে হচ্ছে বন্যার পানি। প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সরকারি বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না। সেখানে খাবারের কষ্টে মানুষ হাহাকার করছে। দোকানপাটেও তেমন খাদ্যসামগ্রী নেই। সামান্য কিছু পাওয়া গেলেও দাম নেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি। এদিকে বন্যাকবলিত অনেক এলাকা থেকেই পানি নামতে শুরু করেছে। সেসব এলাকায় ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ পেটের পীড়া, জ¦র, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ার মতো বিভিন্ন রোগ। মেডিকেল টিম কাজ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ওষুধেরও অভাব রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে মানুষ সাধ্যমতো দান করছে। ব্যাংক, বীমা, শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই জাতীয় দুর্যোগের সময় আরো বেশি এগিয়ে আসা প্রয়োজন। ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় যেসব দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো দ্রুত কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগতভাবে সংগৃহীত ত্রাণসামগ্রীও জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিতরণ করা প্রয়োজন। ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি করে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দুর্যোগ আমরা শিগগিরই কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আমাদের প্রত্যাশা।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button