দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা
কয়েক দিন ধরে তৈরি পোশাকশিল্পের কিছু কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও শ্রমিকরা রাস্তায়ও নেমে আসেন। কিন্তু কোথাও অপ্রীতিকর কিংবা সহিংস কোনো ঘটনা ঘটেনি। শ্রমিকরা সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন চালিয়ে যান। এরই মধ্যে গত বুধবার আশুলিয়ায় ৪৫ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, ৪৪টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা কবা হয়। পোশাক কারখানাগুলোতে এ ধরনের ঘটনা এ শিল্পের জন্য অশনিসংকেত। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প। অতীতে এই খাতকে অস্থির করার জন্য দেশি-বিদেশি নানা ধরনের উসকানির অভিযোগ ছিল। একটি সফল গণ-আন্দোলনের পর বর্তমানে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই সময়ে প্রধান এই রপ্তানি খাতটিতে কোনোভাবেই কোনো অস্থিরতা কাম্য নয়। সে কারণেই সরকার, উদ্যোক্তা ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সবাই এক হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, সরকার পরিবর্তনের পর শিল্পাঞ্চলগুলোতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংকট শুরু হলেও বর্তমানে শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে বেশ কিছু ন্যায্য দাবিও আছে। শ্রমিক নেতারা জানান, কারখানাভিত্তিক কিছু সমস্যা আছে; যেমন-হাজিরা বোনাস, টিফিন বিল, নাইট অ্যালাউন্স বৃদ্ধি, মজুরি সমন্বয় এবং মাতৃত্বকালীন অবস্থায় ভারী কাজ না দেওয়া ইত্যাদি দাবি রয়েছে শ্রমিকদের। এমন প্রেক্ষাপটে সংকট সমাধানে বা শ্রমিকদের দাবিগুলো সমাধানের জন্য সরকারের তদারকি সংস্থা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে (ডাইফি) কার্যকর করারও পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে। তবে কেউ কেউ এর নেপথ্যে নতুন বাংলাদেশ গঠনের এই সময়টাকে অস্থির করার চেষ্টা রয়েছে বলেও মনে করেন। তৈরি পোশাকশিল্প নানাবিধ সংকটে ভুগছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একপর্যায়ে কমপ্লিট শাটডাউন, পরিবহন বন্ধ থাকা, সহিংসতাসহ নানা কারণে বেশ কিছু দিন শিল্পে স্বাভাবিক কর্মকা- চলতে পারেনি। অনেক দিন ধরেই কারখানাগুলোকে জ¦ালানি সংকটসহ নানাবিধ সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় লাগাতার আন্দোলন হলে এই শিল্প ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হবে। বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছ থেকে সামনের মৌসুমে কাজ পাওয়া নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাজেই শিল্পের স্বার্থে অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তাদের কাজে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, দেশের শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হলে বা দুর্বল করা হলে তা অর্থনীতিতে বড় ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে বলেও জানান তিনি। আমরা আশা করি, সরকার ও এই খাতের সব পক্ষ যৌক্তিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে।
