সম্পাদকীয়

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

বর্তমান যুগে বৈদ্যুতিক শক্তি দিয়েই অধিকাংশ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এই যুগটাও প্রযুক্তিনির্ভর। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়েই চলছে মানুষের জীবন। যার ফলে প্রযুক্তি সক্রিয় রাখতে বিদ্যুতের চাহিদা বিকল্প নেই। মানুষের জীবন পরিচালনার সর্বক্ষেত্রেই এখন বিদ্যুতের ব্যবহার অনস্বীকার্য। তাই বিদ্যুৎ শক্তি পর্যাপ্ত পরিমাণ রাখাটা আমাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়ছে। বর্তমান যুগে বিদ্যুৎ বিহীন থাকার কথা কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু সম্প্রতি রাজধানীসহ সারাদেশে লোডশেডিং ক্রমেই বেড়ে চলছে। অসহনীয় গরমের মধ্যে লোডশেডিং জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে। রাজধানীতে তেমন লোডশেডিং না হলেও রাজধানীর বাইরের জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং পরিস্থিতি অসহনীয়। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। বিপিডিবির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াটের কম। কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১৩-১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় দৈনিক লোডশেডিং করতে হচ্ছে দু-তিন হাজার মেগাওয়াটের মতো। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) প্রতিবেদনে জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে দেশে লোডশেডিং হয়েছে এক হাজার ৮৭৩ মেগাওয়াট। এ সময় ১৪ হাজার ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৬৮৯ মেগাওয়াট। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সাড়ে তিন মাস ধরে সামিট গ্রুপের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দৈনিক এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মতো গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। বকেয়া পরিশোধ না করায় ভারতের আদানি গ্রুপও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। আবার কয়লা সংকটে মাতারবাড়ী এবং এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়াও কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও। বকেয়ার কারণে বেসরকারি খাতের তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও সর্বোচ্চ চাহিদায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বিগত সরকারের আমলে মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা পেলেও এর মধ্যে রয়েছে রহস্য; যা অবাক হওয়ার মত হলেও সত্যি। বিদ্যুৎ খাত থেকে বিগত সরকার লুট করে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এছাড়াও বিদ্যুৎ সরবরাহে বকেয়া এবং ঋণ করে রেখেছেন হাজার হাজার কোটি টাকা! যার বোঝা এসে পড়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপর। বিপুল পরিমাণের ঋণের বোঝা এবং নতুন দায়িত্বে এসে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে আনাটা সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও আমরা প্রত্যাশা করব, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের এই প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিভিন্ন দেশের সহায়তায় আমাদের দেশ লোডশেডিং মুক্ত করবেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button