সম্পাদকীয়

সার আমদানিতে জোর দিতে হবে

বাংলাদেশে সারের মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই পূরণ হয় আমদানির মাধ্যমে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সরকারি গুদামগুলোয় সার মজুদ আছে প্রায় ১৮ লাখ টন। এ মজুদ দেশের আসন্ন প্রয়োজনও তাৎক্ষণিকভাবে মেটাতে পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। তাদের ভাষ্যমতে, দুই মাসের মধ্যে শুরু হচ্ছে বোরো ও রবি মৌসুম। দেশে সবচেয়ে বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী মৌসুমটিতে সারসহ চাষাবাদের প্রয়োজনীয় উপকরণের চাহিদাও থাকে সবচেয়ে বেশি। দেশে মোট রাসায়নিক সারের ৭০ শতাংশেরও বেশি ব্যবহৃত হয় শুধু বোরো ও রবি মৌসুমে। যদিও এবার গ্যাস সংকটে সারের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। আমদানিতে জটিলতা তৈরি করেছে ডলার সংকট। ফলে আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমে সারের প্রয়োজনীয় জোগান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমদানি করা সারের মূল্য বাবদ আট কোটি আট লাখ ডলার বা প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়নি। চুক্তির খেলাপ হওয়ার কারণে সরবরাহকারী চারটি দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সার রপ্তানির চুক্তি বাতিল করেছে। এতে তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে নন-ইউরিয়া জাতীয় সার আমদানি। অর্থ ও কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সার আমদানি বাবদ বাংলাদেশের কাছে সৌদি আরব পাবে এক কোটি ৫৮ লাখ ডলার, মরক্কো পাবে দুই কোটি ১০ লাখ ডলার এবং কানাডা পাবে এক কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ ছাড়া এসব দেশ থেকে সার আমদানি করতে জাহাজভাড়া বকেয়া রয়েছে প্রায় তিন কোটি এক লাখ ডলার। সব মিলিয়ে সার কেনা বাবদ বাংলাদেশকে প্রায় আট কোটি আট লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে। এই অর্থ পরিশোধ না করায় নানা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব জটিলতার কারণে এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এলসি খোলা প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে বোরো উৎপাদনে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু এলসি জটিলতায় সার আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় রেশনিং করে হলেও গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে সার কারখানাগুলোকে পুরোদমে উৎপাদনে নিয়ে আসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাবতীয় প্রক্রিয়াগত জটিলতা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করে প্রয়োজনমতো আমদানির মাধ্যমে সারের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে বোরো ধান। ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকেই শুরু হয় বোরো চাষাবাদের প্রস্তুতি। আমরা মনে করি, তার আগেই আমদানি করা সার বাজারে সরবরাহ হওয়া প্রয়োজন। তাই যত দ্রুত সম্ভব সব বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে সার আমদানি শুরু করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button