স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুর লঞ্চঘাটে স্থানান্তরের দাবি আজও পূরণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ

দিঘলিয়াবাসীর দেয়াড়া-দৌলতপুর খেয়াঘাটটি

সৈয়দ জাহিদুজ্জামান দিঘলিয়া খুলনা থেকে ঃ দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া-দৌলতপুর খেয়াঘাটের পশ্চিম পাড়ের ঘাটটি ব্যস্ততম বাজারের চিপাগলি থেকে স্থানান্তর করে বন্ধ হয়ে যাওয়া সাবেক লঞ্চঘাটে স্থানান্তরের গণদাবী আজও পূরণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, দেয়াড়া-দৌলতপুর খেয়াঘাটের পশ্চিম পাড়, বাজারের ভেতরের চিপা গলি থেকে স্থানান্তর করে বন্ধ হয়ে যাওয়া সাবেক লঞ্চঘাটে স্থানান্তরের দাবি দিঘলিয়াবাসীর অনেকদিনের। যা খুলনা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। মানবিক ধারণা থেকে চিন্তা করলে সহজেই বুঝা যায়, একটা ব্যস্ততম বাজারের চিপাগলির লোকজন ঠেলে সারা বছর একটা সভ্য জনপদের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী, নানা বয়সের রোগী, দেশ-বিদেশে চাকিরীরত জনগোষ্ঠী, খুলনা ও আশপাশের জেলাগুলেতে চাকুরীরত লোকজন, অফিস আদালতে যাতায়াতকারী লোকজন এবং সঙ্গীয় মালামাল ল্যাগেজ নিয়ে ঘাটে পৌঁছা ও পারাপার হওয়া কত দুর্বীসহ ও বিড়ম্বনার। দেয়াড়া-দৌলতপুর খেয়াঘাট পারাপারে বিড়ম্বনার প্রতিবাদে খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন হাটে-বাজারে হাজার মানুষের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন, খুলনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি প্রদান, খুলনা জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা, কর্তৃপক্ষের কয়েকবার স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সাবেক লঞ্চঘাট খেয়াঘাট সরেজমিনে পরিদর্শন সব কিছু কি এ জনপদের মানুষের অরণ্যে রোদন?
দেয়াড়া-দৌলতপুর বাজার খেয়াঘাটটির পশ্চিম পাড়ের ঘাটটি স্থানান্তর কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, খুলনার তৃতীয় বৃহত্তম ও ব্যস্ততম এ ঘাটটি সংস্কারের ও স্থানান্তরের দাবী বারবার জানালেও দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পায়নি এ জনপদের মানুষ। প্রতিদিন চার সহস্রাতিক মানুষ ঘাটটি দিয়ে পারাপার হয়। খুলনা জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন ঘাটটি থেকে ইজারার মাধ্যমে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়। এ ঘাটটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব এত বেশী হওয়ার পরও যাত্রী পারাপারের ক্ষেত্রে সুবিধা বরাবরই উপেক্ষিত।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খেয়াঘাটের যাত্রী উঠা নামার জন্য দুই প্রান্তের সিঁড়ি নদীতে ডেবে যাওয়ায় বিশেষ করে সিঁড়ির অবস্থা এতই বিপজ্জনক যে প্রতিনিয়ত ঘটে দুর্ঘটনা। ভাটার সময় দুর্ভোগ দ্বিগুণ আকার ধারণ করে। রীতিমতো মানুষের স্বাধীন ও শালীনভাবে পারাপারের অযোগ্য ও অধিকার হরণের সামিল। দৌলতপুর খেয়াঘাটের চিপা গলির অর্ধেকাংশ দখল করে আছে ইজারাদারদের টোল আদায়ের চেয়ার টেবিল। বাকি অংশ দিয়ে অসহায়, মারাতœক অসুস্থ রোগী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, বিকলাঙ্গ, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, শিশু ও নারী-পুরুষ ধাক্কাধাক্কি করে বের হওয়ার পর দৌলতপুর বাজারের কাপড় পট্টির দীর্ঘ চিপা গলি অতিক্রম করে মূল সড়কে উঠতে হয়। বিশেষ করে যুব মহিলা ও স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রীদের নানা সমস্যার সন্মুখিন হতে হয়। কাপড়ের পট্টির চিপা গলি দিয়ে যানবাহন বিশেষ করে রিক্সা, ভ্যান, অটো চলাচলের কোন সুযোগ না থাকায় উপরোল্লেখিত লোকজনদের নিয়ে চিপা গলির ভেতর দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে সড়কে পৌঁছাতে হয়। কোনো যানবাহন সরাসরি পার হয়ে যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থাকে মানুষ সরকারিভাবে সৃষ্ট জিম্মীদশা বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া প্রবাসী, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত যাত্রীদের সাথে থাকা ভারী ব্যাগ, লাগেজ বা বিভিন্ন ধরণের মালামাল নিয়ে কাপড় পট্টির সরু গলি দিয়ে খেয়াঘাটে আসতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঈদ ও পূজার সময় কাপড় পট্টির গলিতে ক্রেতাদের ভিড়ে খেয়াপারের যাত্রীদের প্রধান সড়ক থেকে ঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে করুন দুরাবস্থা পোহাতে হয়। রাত ১১ টার পর পারাপারের গুরুত্বপূর্ণ এ খেয়া ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়না। তাই এ দাবী দিঘলিয়াসহ সকল পারাপার যাত্রীদের সকলের গণদাবী। দৌলতপুর খেয়া ঘাটের পার্শ্ববর্তী বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়ন্ত্রণাধীন একটি লঞ্চঘাট রয়েছে যেটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উক্ত লঞ্চঘাটে দৌলতপুর খেয়াঘাটটি স্থানান্তর করা হলে জনদুর্ভোগ থেকে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের রক্ষা মিলতো।
দিঘলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, দেয়াড়া-দৌলতপুর খেয়াঘাট দিয়ে ভৈরব নদী পার হতে গিয়ে দিঘলিয়ার আপামোর জনতার দুর্ভোগের অন্ত নেই। এ জনপদের মানুষ এ খেয়াঘাট পার হতে গিয়ে জীবন দিয়েছে, হাত-পা ভেঙ্গেছে, মোটরসাইকেল, সাইকেল ও মালামাল নিয়ে নদীতে পড়েছে বহুবার। ঘাট সংশ্লিষ্টদের অব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে যুগ যুগ ধরে এ জনপদের হাজার হাজার সাধারণ মানুষের খেয়াঘাটটি দিয়ে পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।এলাকাবাসী জনগণের জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে খেয়া ঘাটটি লঞ্চঘাটে স্হানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণসহ দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button