স্থানীয় সংবাদ

খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিনজন হামলার শিকারের ঘটনায় মামলা

# ঢাকা বেনাপোল রুটে রুপসী বাংলা ট্রেনের কেবিনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ #

যশোর ব্যুরো ঃ ঢাকা বেনাপোল রুটে চলাচলরত রুপসী বাংলা ট্রেনের খ কেবিনের ভেতরে যাত্রা পথে যশোর রেলষ্টেশনের প্লাটফর্ম এলাকায় স্বামী স্ত্রীসহ তিনজনের আক্রমনের শিকার হয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা ডিভিশনের নির্বাহী পরিচালক জিয়াউর রহমান (৪৪)। এ সময় ঠেকাতে গিয়ে আরো দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন আহত হয়েছে।
সন্ত্রাসীদের হামলায় জাতীয় গৃহায়ন দুই কর্মকর্তার নগদ টাকা হাত ঘড়ি ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন, গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম জয়দেবপুর গ্রামের ওসমান গণির ছেলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব। মামলায় আসামী করেন, মাগুরা জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম সাহাপাড়া গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে নাহিদ হাসান, নাহিদ হাসানের স্ত্রী সাবিহা বিনতে কালাম ও নাহিদ হাসানের পিতা আব্দুর রউফ।
বাদি তার মামলায় উল্লেখ করেন, গত ১৬ আগষ্ট বাদি দাপ্তরিক কাজে ঢাকা টু বেনাপোল গামী রুপসী বাংলা ট্রেনের খ কেবিনের সীট নং ২১,২২,২৩ ও ২৪ যোগে ঢাকা হতে বাদিসহ তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহরিয়া জনি ঢাকা হতে যশোরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। ওই দিন সকাল পৌনে ১১ টার সময় নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানসহ তার সহকর্মীরা নড়াইল অতিক্রম করে যশোরের মধ্যে ট্রেন পৌছালে যাত্রাপথে জিয়াউর রহমান ট্রেনের ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে পুনরায় নিজ কক্ষে আসার সময় তার ব্যবহৃত ফোনে রিং আসলে তিনি ফোনে কথা বলতে বলতে নিজ কক্ষে প্রবেশের সময় ভূলক্রমে পাশের কেবিনের অবস্থান করা উল্লেখিত কেবিনের দরজা খুলে ফেলে। এমতাবস্থায় কেবিনের ভিতর থাকা সাবিহা বিনতে কালাম তার শিশু সন্তানকে কিছু খাওয়াতে দেখতে পেয়ে নিজের ভূল বুঝতে পেওে সাথে সাথেই ওই কক্ষে থাকা সাবিহা বিনতে কালামের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে কেবিনের দরজা বন্ধ করে নিজ কেবিনের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেলে হঠাৎ নাহিদ হাসান জিয়াউর রহমানের সাথে অত্যন্ত খারাপ আচারণ শুরু করে। সে উচ্চস্বরে বলে যে, এই শালা তোকে জীবনের মত শেষ করে দিবো। তখন জিয়াউর রহমান নাহিদ হাসানের কাছে তার ভূলের জন্য বারবার দুঃখ প্রকাশ করে সরি বললেও নাহিদ হাসান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাকে মারতে উদ্যত হয়। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তব্যরত টিটি ইলিয়াস কবির ওরফে সেলিম নাহিদ হাসানকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে অনুরোধ করলে কিছুটা নিবৃত্ত হলে জিয়াউর রহমান নিজ কেবিনের যাওয়ার চেষ্টা করলে নাহিদ হাসান ইলিয়াস কবির ওরফে সেলিমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা চোখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশের হাত দিয়ে কিল ঘুষি মারতে থাকে এবং উচ্চস্বরে তার জীবন নাশের হুমকী প্রদান করে। উক্ত আঘাতে জিয়াউর রহমান ট্রেনের বগির মেঝেতে পড়ে যায়এবং মাথায় ও চোখে গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয় এবং পরিহিত চশমা ভেঙ্গে যায়। উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া ঘটনা দেখতে পয়ে ট্রেনে দায়িত্বরত পুলিশের এসআই এমদাদ ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহরিয়া জনিসহ অন্যান্য যাত্রীগণ এগিয়ে এসে নাহিদ হাসানকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে কিছুটা নিবৃত্ত হলে প্রত্যেকে যারযার কেবিনে চলে যায়। পরবর্তীতে দুপুর ১টা বেজে ৪০মিনিটে যশোর রেলষ্টেশনে ট্রেনটি পৌছালে বাদী ও তার সাথে থাকা কর্মকর্তা ষ্টেশনের প্লাটফর্মে নামার সাথে পূর্ব পরিকল্পনায় উল্লেখিত আসামীসহ তাদের অজ্ঞাতনামা ৫/৬জন আসামীকে সাথে নিয়ে বাদি ও তার সাথীদের উপর অর্তকিত হামলা চালায়। আব্দুর রউফ হাতুড়ী দিয়ে জিয়াউর রহমান ও যাত্রী শহরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে আক্তারুজ্জামান কামরুলকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। হাতুড়ী পেটায় জিয়াউর রহমান আঘাত পেয়ে ষ্টেশনেনর প্লাটফর্মের মেঝেতে পড়ে যায়। যশোর ষ্টেশনের দায়িত্বরত পুলিশের এসআই মিনহাজ,এসআই জাহাঙ্গীর,রেলওয়ে প্রকৌশলী তৌহিদসহ ষ্টেশনে থাকা জনসাধারণ জিয়াউর রহমানকে আসামীদের কবল থেকে উদ্ধার করে। ঘটনার সময় রাসেল মিয়ার হাতে থাকা ১৮ হাজার টাকা মূল্যের হাত ঘড়ি ও শাহরিয়া জনির পকেটে থাকা নগদ ১৮হাজার ৬শ’ টাকা উল্লেখিত আসামীরা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেয়। আসামীদের দখলে থাকা হাতুড়ী রেলওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। জিয়াউর রহমানের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় তাকে ওই দিন দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে কোতয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button