স্থানীয় সংবাদ

পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা : হয়রানি বন্ধ ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে গৃহবধুর সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, হয়রানি বন্ধ ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চাঁনমারী আলী হাফেজ সড়কের বাসিন্দা পিতা কাজী মাহাবুবুর রহমান, মাতা তহুরা বেগম দম্পত্তির মেয়ে মাসুমা আক্তার সম্মেলনে অভিযোগ করেন,তার পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত জেলা: খুলনা, থানা: বটিয়াঘাটা (বর্তমান লবণচরা থানা), মৌজা: মাথাভাঙ্গা, খতিয়ান নং-আরএস ৪৫৮, দাগ নং-২৬৮৭, ২৬১৮, ২৫৪৬, ২৫৫১ ও ২৬১-এর মধ্যে মোট ০.১৬৬৩ একর সম্পত্তি রয়েছে। যাহা তার বাবা কাজী মাহবুবুর রহমান দলিল নং-১৪৫৩, তারিখ ২৯/০৫/১৯৬৬ মূলে শ্রী সুরেশ চন্দ্র দাশের কাছ থেকে ১.১৪ একর জমি ক্রয় করেন। একই দিনে আমার মা তহুরা বেগম দলিল নং-১৪৫৪ মূলে একই ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। বাবার মৃত্যুর পর মা, দুই ভাই (কাজী মাসুম বিল্লাহ, কাজী মোহাতাছিম মাসুদ) ও বোন (মাসুদা আক্তার) তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি ইসলামী ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করেন। তিনি তার প্রাপ্ত অংশ নামপত্তন করে নিয়মিত খাজনা প্রদান করে বসবাস করছিলেন। বাড়ির চারপাশে ঘেরা দিয়ে সাধারণভাবে টিনের ঘর নির্মাণ করে দখলে ছিলেন। কিন্তু কিছু ভূমিলোভী দুর্বৃত্ত তার এই সম্পত্তির দিকে নজর দেয় এবং উৎখাতের চেষ্টা শুরু করে। তেরখাদা উপজেলার আবু শাহাদাৎ (বাবুল), শিপইয়ার্ড ইব্রাহিমীয়া মাদরাসা রোডের মনসুর আলীর মেয়ে পলি আক্তার সুইটি, মনসুর আলীর স্ত্রী ফরিদা বেগম, ছেলে ফরহাদ, মেয়ে জামাই তাইফ উদ্দিন, মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন এবং বোখারিয়া পাড়ার কাজী হামিদ উল্লাহর ছেলে কাজী মোস্তফা কামাল মিলে তার সম্পত্তি দখলের জন্য উঠেপড়ে লাগে। ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারা জমিটি দখলের হুমকি দিলে আমি ১৮ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৪/১৪৫ ধারায় এমপি-৭৫৬/২২ মামলাটি দায়ের করেন। আদালত বিবাদীদের শোকজ করেন এবং লবণচরা থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে থানার ওসি আদালতে প্রতিবেদন দেন যে আমি আমার সম্পত্তির বৈধ দখলে আছি। দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালত রায়ে আমার সম্পত্তিতে বিবাদীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু বিবাদীরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা (ক্রিঃ বিঃ ২৩/২৪) দায়ের করে। ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মহানগর দায়রা জজ আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে পূর্বের রায় বহাল রাখেন। কিন্তু এরপরও বিবাদীরা আদালতের রায় অমান্য করে আমার বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়, সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে, গাছ কেটে ফেলে। এমনকি ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর আদালতের কাগজপত্র দেখাতে গেলে আমাকে প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দেয়। এর পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, তার বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগে বিবাদীরা মামলা দায়ের করে। তবে লবণচরা থানার পক্ষ থেকে যথাযথ প্রতিবেদন না দেওয়ায় তারা পিবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পিবিআই সমস্ত ঘটনার তথ্য জানার পরও তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর তারা নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত মামলা নং ২১৮/২৪ দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানির পর সমস্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ওই নিষেধাজ্ঞা আবেদন বাতিল করে দেন। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট, আদালতের রায় এবং আইনের উপস্থিতি সত্ত্বেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মাসুমার বৈধ সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, আদালতের একাধিক রায় ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন তার পক্ষে থাকা সত্ত্বেও সে এখনও বৈধ সম্পত্তি ভোগ করতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাসুমা দাবি জানান আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।
বৈধ সম্পত্তি দখলকারীদের উচ্ছেদ করা হোক। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button