স্থানীয় সংবাদ

ঝড়-বৃষ্টিতে মণিরামপুরে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি!

মোঃ আব্বাস উদ্দীন, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ বৈরি আবহাওয়া ও নানান প্রতিকুলতায় মণিরামপুরের বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে বেশ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে বোরো চাষীরা। লাগাতার বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের কবলে পড়ে সময়মত পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারায় মাঠে মারা গেছে কৃষকের স্বপ্ন আশা ভরসা! বোরো ধান এখন কৃষকের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাগাতার বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ায় বেশীরভাগ ক্ষেতে পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে বহু ক্ষেতের ধান চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ঝড়ো হাওয়া ও শিলা বৃষ্টিতে ক্ষেতের পাকা ধানের একটা অংশ ঝরে পড়েছে। ফলে অত্র উপজেলায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া আবহাওয়ার বৈরিতার মধ্যে ক্ষেতের উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে বোরো চাষীকে মজুরি কিনতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদিত ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে চাষীকে সমুদয় ধান কিনে নেওয়ার মতো খরচ হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে মণিরামপুর উপজেলায় ২৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশী বলে দাবী সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তরের। এবার উপযুক্ত আবহাওয়া এবং সঠিকভাবে বোরো ক্ষেতের সেচ, সার প্রয়োগ ও পরিচর্চার ফলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা যায়। কিন্তু পাকা ধান ঘরে তুলতে যেয়ে চাষীদের সীমাহীন ভোগান্তিতে আগামীতে অত্র উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বোরো ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা অন্য ফসল আবাদের কথা ভাবছেন। উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের ঘুঘুরাইল গ্রামের কৃষক আল মামুন বলেন, বিগতবছর ধানের বাজারদর ও খড়-বিচালীর দাম ভাল হওয়ায় লাভের আশায় ৪২ শতকের আড়াই বিঘা জমিতে এবার বোরো ধানের চাষ করেছিলাম। কিন্তু এবার পাকা ধান ঘরে তুলতে যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাতে আগামিতে বোরোধান চাষ করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া ধানের বাজার দর খুবই কম। একমন ধান খোলা বাজারে একহাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। একমন ধান বিক্রির টাকা দিয়ে এবার একজন দিনমজুর কিনতে পারিনি কৃষকরা। তাছাড়া টানা বৃষ্টিপাত ঝড়ের কবলে পাকা ধান জমিতে পড়ে যাওয়ায় ধানের চারা গজানো ও ধান ঝরে যেয়ে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেই সাথে গবাধিপশুর খাদ্য বিছালী ও খড়-কুটার ও ক্ষতি হয়েছে। এমনই ক্ষতির কথা জানেিয়ছেন উপজেলার ঝাপা ইউনিয়নের কোমলপুর গ্রামের আদুল গফুর ও সুভাস সিংহ। উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ মাহমুদা খাতুন জানান, উপযুক্ত আবহাওয়ায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বৃষ্টি ও ঝড়ের কবলে পড়ে কিছু কিছু নিচু জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদিত বোরো ধান কৃষকরা ঠিকঠাকমত ঘরে তুলতে পারলে অত্র উপজেলায় এবার ১৬ হাজার ২শ’ ৬০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button