মোংলা উপজেলা অডিটরিয়ামে “টেকসই উন্নয়নের জন্য সুন্দরবন ও উপকূলীয় জীবিকার সুরক্ষা” শীর্ষক দিনব্যাপী সংলাপের বিশেষ

# অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, পাঁচটি জেলার ওপর সুন্দরবনের অবস্থান। সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষাসহ বিশাল একটি অক্সিজেন ব্যাংক হিসেবে এই সুন্দরবন আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বর্তমান সরকার সুন্দরবনকে নিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করতে চায়। সেজন্য নির্বাচনী ইশতেহারে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই ভেড়িবাধ নির্মাণ ও আধুনিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে উপকূলীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ সহনশীল কৃষিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উপকূলীয় অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়নে একটি বিশেষায়িত উপকূল জোন গঠন করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কেসিসি প্রশাসক শনিবার বিকেলে মোংলা উপজেলা অডিটরিয়ামে “টেকসই উন্নয়নের জন্য সুন্দরবন ও উপকূলীয় জীবিকার সুরা” শীর্ষক দিনব্যাপী সংলাপের বিশেষ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রায় আমরা (ধরা) সহ ব্রাইটার্স, পশ্ুর রিভার ওয়াটারকিপার, সচেতন ফাউন্ডেশন এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এ নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে। সংগঠনটি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রাক্কলে রাজনৈতিক দলসমূহকে নির্বাচনী ইশতেহারে আরও পরিবেশ সংবেদনশীল ভূমিকা রাখার জন্য পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সক্রিয় অন্যান্য সংগঠনের সাথে যৌথভাবে কয়েকটি সেমিনার আয়োজন করে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বৃহৎ রাজনৈতিক দলসমূহের নেতৃবৃন্দ তাতে অংশগ্রহণ করে পরিবেশ রায় তাঁদের পরিকল্পনা, প্রয়াস ও পরামর্শ তুলে ধরেন যার বাস্তব প্রতিফলন এবারের নির্বাচনী ইশতেহারসমূহে স্থান পায়। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকার এবং বিরোধী দলসমূহকে তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে দিনব্যাপী এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক আরো বলেন, আমরা সুন্দরবনকে, এর প্রাণিকুলকে বাঁচিয়ে রাখার কথা বলি, পরিবেশ রক্ষার কথা বলি কিন্তু বন ধ্বংসকারীরা আইনের ফাক-ফোকর দিয়ে পার পেয়ে যায়। তিনি মাছ শিকারে বিষ প্রয়োগ, গাছকাটা, হরিণ শিকার, পর্যটন ইত্যাদি বিষয়ে নীতিমালা গ্রহণ ও নীতিমালা বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান এবং বনকে নতুন করে সাজাতে হলে সুন্দরবন বোর্ড গঠন করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। মোংলা সরকার কলেজের অধ্যাপক কে এম রব্বানী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিষ্টার শেখ মো: জাকির হোসেন, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র মো: জুলফিকার আলী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম চৌধুরী ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জয়দেব চক্রবর্তী। অন্যান্যের মধ্যে সুন্দরবন ট্যুর অপারেটর এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুবায়ের হীরা, উপকূলীয় সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু, ব্রাইটার্স-এর পরিচালক সাইদুর রহমান সিয়াম ও সভাপতি ফারিহা অমি, ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিন খলিফা, নারী নেত্রী ও পরিবেশ কর্মী গীতা হালদার ও কমলা সরকার, জেলে সমিতির সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হালদার, ঢাংমারী ডলপিন সংলক্ষণ দলের দলনেতা ইস্রাফিল, পৌর এলাকাবাসী রাফিয়া জাহান মিশু প্রমুখ বক্তৃতা করেন। সঞ্চালনা করেন ধরা-বরগুনা শাখার সদস্য সচিব মুশফিক আরিফ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের নূল আলম শেখ।



