স্থানীয় সংবাদ

সাংবাদিকদের সঙ্গে রেঞ্জ ডিআইজি’র মতবিনিময় সভা

# খুলনা রেঞ্জে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ সরকারের ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা রেঞ্জে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। একইসঙ্গে তিনি খুলনা অঞ্চলের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিআইজি। এ সময় তিনি জানান, সরকারের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন পুলিশ স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে ৩০ হাজার বৃক্ষ রোপণ করা হবে।
এই কর্মসূচির আওতায় রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, রেঞ্জাধীন ১০টি জেলা পুলিশ অফিস ও পুলিশ লাইনস, তিনটি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, আরআরএফ খুলনা, ২৯টি সার্কেল অফিস, ৬৪টি থানা, ১৫টি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ২৪টি পুলিশ ফাঁড়ি এবং ১৫৪টি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অর্থ ও প্রশাসন) তোফায়েল আহমেদ, অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশন) শেখ জয়নুদ্দীন, পুলিশ সুপার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অপারেশনস) মো. কামরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. সাজ্জাদুর রহমান রাসেল, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তাজুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি ৭ জুলাই খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়।
সভায় ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খুলনা রেঞ্জে মাদক নির্মূল, মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধ, চোরাচালান দমন, সুন্দরবনে দস্যুতা প্রতিরোধ এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। তিনি বলেন, খুলনা মহানগরীতে অপরাধ সংঘটনের পর যাতে অপরাধীরা পার্শ্ববর্তী জেলার থানাগুলোতে পালিয়ে আশ্রয় নিতে না পারে, সে জন্য একই সময়ে সর্বত্র অভিযান বা ‘এস ড্রাইভ’ পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ইনটেলিজেন্স নির্ভর পুলিশিং, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং এবং ট্র্যাডিশনাল পুলিশিংÑএই চার ধরনের পুলিশিং ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ডিআইজি বলেন, “খুলনা রেঞ্জকে মাদক ও সকল ধরনের অপরাধমুক্ত করতে বাংলাদেশ পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অপরাধ দমন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকবিরোধী অভিযান, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। ডিআইজি সেগুলোর জবাব দেন এবং খুলনা রেঞ্জে অপরাধ দমনে পুলিশ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button