সোলায়মানের দখলে থাকা ৪টি বাস উদ্ধারের নির্দেশ বিআরটিসি চেয়ারম্যানের

# দৈনিক প্রবাহের সংবাদে টনক নড়লো কর্তৃপক্ষের #
নির্দেশনা বাস্তবায়নে খুলনা ডিপোর ম্যানেজারের গড়িমসি
স্টাফ রিপোর্টার : বিআরটিসি’র খুলনা ডিপোর ৪টি বাস জনৈক সোলায়মানের দখলে থাকার বিষয়ে দৈনিক প্রবাহে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের। এর পরই সংশ্লিষ্ট বাসগুলো উদ্ধারের নির্দেশনা দিয়েছেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুরো বিআরটিসি। তবে খুলনা বাস ডিপোর ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান বিআরটিসির চেয়ারম্যানের নির্দেশনা পেলেও এখন পর্যন্ত বাস উদ্ধার তো দূরের কথা, কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপও গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে সোলায়মানকে অ-ঘোষিতভাবে পুনরায় ওই ৪টি বাস দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজার কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৬ মে চেয়ারম্যান হিসেবে আব্দুল লতিফ মোল্যা বিআরটিসিতে যোগদান করার পর সারা বাংলাদেশে বিআরটিসির বাসের লং লিজ বন্ধ করেন। তবে চেয়ারম্যানের এই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে খুলনা বিআরটিসির বাস ডিপোর তৎকালীন ম্যানেজার মোশারফ হোসেন যোগসাজসে সোলায়ামান নামে এক ব্যাক্তিকে অবৈধভাবে ৪টি বাস তুলে দেন। লং লিজ বন্ধ থাকার পরেও ম্যানেজার মোশারফ বিশেষ সুবিধা নিয়ে সোলায়মানকে দিয়ে ৪টি বাস বরগুনা এবং মুন্সীগঞ্জ রুটে পরিচালনা করে সোলায়মানের নিকট থেকে বছর খানিক মোটা অংকের সুবিধা নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, বিআরটিসি’র খুলনা বাস ডিপোর ওই ৪টি বাস থেকে গত ১৫ মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বিআরটিসি বঞ্চিত হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
তথ্যমতে, খুলনা বিআরটিসি বাস ডিপোর তৎকালীন ম্যানেজার মোশারফ হোসেনের বদলির পর বর্তমান ম্যানেজার হিসেবে মো. কামরুজ্জামান যোগদান করে তিনিও তার সাবেক ম্যানেজারের ধারাবাহিকতায় সোলায়মানকে দিয়ে ৪টি বাস চালানো অব্যহত রাখেন। অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ বিআরটিসির নিয়ন্ত্রণের বাইরে, এমনকি বিআরটিসি’র নিয়োগকৃত কোন চালক এবং সুপার ভাইজার ছাড়াই সোলায়মান তার লোকবল দিয়ে দেড় বছর বাসগুলো চালিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা ছিলো না। তবে এ বিষয়ে দৈনিক প্রবাহের নিউজের পর ঘুম ভাঙ্গে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের।
এ বিষয়ে বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা মুঠোফোন জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর আমি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেছি।
বিআরটিসির খুলনা বাস ডিপোর ম্যানেজার কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে আমিও বাস উদ্ধারের চেষ্টা করছি। তবে মুঠোফোন একাধিকবার সোলায়মানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্রমতে, বিআরটিসি’র খুলনা বাস ডিপোতে সোলায়মানের বিশ্বস্ত কয়েকজন ড্রাইভার এবং সুপারভাইজার দিয়ে পুরো একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি।
এদিকে, গাড়ী উদ্ধারের নামে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি খুলনা ডিপোর ম্যানেজার কামরুজ্জামান। গাড়ী উদ্ধার করে সোলায়মানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন খুলনার সচেতন মহল।



