নোটিশেই সীমাবদ্ধ বাপাউবো! দেড় মাসেও উচ্ছেদ নয়, বহাল তবিয়তে অবৈধ স্থাপনা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : সরকারি জমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ কি কেবল নোটিশ জারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ? খুলনার পাইকগাছায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত পাকা দোকান ও স্থাপনার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার দেড় মাস পার হলেও এখনো নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ। উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে বাপাউবোর গড়ইখালী পানি উন্নয়ন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাজু হাওলাদারের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম সানাকে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে পাকা দোকান ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, চক বগুড়া মৌজার ১০/১২ নম্বর পোল্ডারে বাপাউবোর নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি জমিতে অনুমতি ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তাকে নিজ দায়িত্বে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্রসহ তিন দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়। তবে নোটিশের নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো সরেজমিনে কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দেওয়া এসব নোটিশ কি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? স্থানীয়রা জানান, সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অন্যরাও সরকারি সম্পত্তি দখলে উৎসাহিত হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাইকগাছা পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এস. এম. রিফাত-বিন-রফিক বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তিন দিনের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি কোনো কাগজপত্র ছাড়াই দেখা করতে এসেছিলেন এবং দাবি করেন, জমিটি বিআরএস খতিয়ানে তার নামে রয়েছে। আমরা তাকে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আসতে বললেও তিনি আর আসেননি।” উচ্ছেদ কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “নোটিশ দেওয়ার পর উচ্ছেদ প্রক্রিয়া আমাদের হাতে থাকে না। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রশাসনের দায়িত্ব। তবে আমরা বিষয়টি আবারও ডিসি মহোদয়কে অবহিত করব।” এদিকে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।



