ভবদহের অর্ধশত গ্রাম পানিতে প্লাবিত, লাখ মানুষ পানিবন্দী

নদী খননের পরও পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় আবারও বন্যার আশংকা!
মোঃ আব্বাস উদ্দীন, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল এবং ভবদহ স্লুইচগেট দিয়ে পানি নিস্কাশিত না হওয়ায় ভবদহ অধ্যুষিত প্রায় অর্ধশত গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় বর্তমানে ভবদহ অঞ্চলের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সড়ক ও ধর্মীয় উপসনালয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে শত শত মাছের ঘের। প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১শ’৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১.৫ কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ সম্পন্ন করার পরও পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় চলতি বর্ষার ভরা মৌসুমে ভবদহ পাড়ের মানুষের ভাগ্যে কী দুর্ভোগ রয়েছে তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছে ভবদহ পাড়ের মানুষ। তবে, পানি নিস্কাশনের বর্তমান অন্তরায় কী তা চিহ্নিত করে দুর্ভোগ লাঘোবে গত রোববার থেকে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। অচিরেই পানিবন্দী দশা থেকে ভবদহ পাড়ের মানুষের মুক্তি মিলবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছেন। জান াযায়, প্রায় ১শ’৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে গত বছরের অক্টোবর মাস হতে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভবদহ অঞ্চলের নদী ও খাল খনন কাজ শুরু হয়। খনন কাজ শেষ করতে চলতি বছরের জুনের মধ্যে নির্ধারন করা হয়েছিল। ভবদহ সংলগ্ন হরিহর, হরি,তেলেগাতী, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদী এই খননের আওতায় ছিল। এরমধ্যে হরি ও তেলেগাতী নদীর ২০ কিলোমিটার এবং টেকা নদীর ৭ কিলোমিটার খনন কাজ শেষ হয়েছে। খোঁ নিয়ে জানা গেছে, ভবদহ স্লুইচগেটের কপাট আটকে যেয়ে উঠা-নামা করছে না। ৪টি সেচপাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য সেচ কাজ চলছে এবং আরও ৫টি পাম্প স্থাপনের কাজ চলছে। কিন্তু খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেরার খর্ণিয়া তেলেগাতী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে খনন কাজ করায়, বাঁধের বিপরীতে ৫শ’ থেকে ৬শ’ মিটার দূরে নদীর বুকে পলি জমে পানি নিস্কাশন বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়ায় এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে অভয়নগর, মণিরামপুর,কেশবপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রাম সম্পূর্ণ ও আংশিক প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে ডহর মশিয়াহাটি, ডুমুরতলা, আন্দা, বারাবাদ, বেদভিটা, হাটগাছা, লখাইডাঙ্গা, সুজাতপুর, আলীপুর, মহিষদিয়া, পোড়াডাঙ্গা,পাড়িয়ালী গ্রামসহ অর্ধশত গ্রামের প্রায় এক লাখ মানুষ বর্তমানে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। আকস্মিক এই জলাবদ্ধতার কারণ কী তা নিয়ে পাউবোসহ সংশ্লিষ্টরা পর্যবেক্ষণ করছেন। ডুমুরতলা গ্রামের স্কুল শিক্ষক শিবপদ বিশ্বাস বলেন, গ্রামের ৫৫টি বাড়ির মধ্যে ৬টি ছাড়া বাকিগুলো পানিতে প্লাবিত হয়েছে। হরিদাসকাটি ইউনিয়নের সুকৃতি বিশ্বাস জানান, ২২ গ্রামের অর্ধেকই পানিতে নিমজ্জিত। পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, জলাবদ্ধতার কারণ শনাক্ত করতে গত শনিবার স্পীডবোট নিয়ে নদী পরিদর্শনে বের হন। খর্নিয়ার কাছে যেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, তার বিপরীত পাশের প্রায় ৬শ’ মিটার দূরে তেলেগাতী নদীর বুকে পলি জমায় পানি নিস্কাশনে বাঁধাপ্রাপ্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত রোববার থেকে ওই পলি অপসারনের কাজ শুরু হয়েছে। এতে স্লুইচগেট দিয়ে পানি নামতে শুরু করেছে বলে তিনি দাবী করেছেন। ভবদহ পানি নিস্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, বিপুল অংকের টাকা ব্যয়ে নদী খননের পরও নদীতে পলি জমা প্রমান করে এই পদ্ধতি কাজে আসবে না। তার দাবী, নদীর পলি বিলে দেওয়ার ব্যববস্থা করলেই জলাবদ্ধতা থেকে নিস্তার পাবে মানুষ। এইজন্য টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট)-এর বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।



