দেশ আবারও সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে : মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

# খুলনা মহানগরী জামায়াতের থানা আমীর ও সেক্রেটারি সম্মেলন #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদের মধ্যে কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন না করে তারা জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। ফলে দেশ আবারও সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম জুলাই সনদ, রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপন করে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা হবে। কিন্তু সে উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, তারা মনে করছে সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তন হলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার আর প্রধানমন্ত্রীর হাতে সীমাহীন ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে পারবে না। সেই কারণেই তারা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে আধিপত্যবাদী শক্তির নানা ষড়যন্ত্র চলছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার ও বিরোধী দলকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সহযোগিতা করবে। বুধবার (২৯ জুলাই) নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে থানা আমীর/সভাপতি ও সেক্রেটারি সম্মেলনে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
সম্মেলনে বক্তৃতা করেন মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মিম মিরাজ হোসাইন, যুব বিভাগের সেক্রেটারি মুকাররাম বিল্লাহ আনসারী, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহারুল ইসলাম, অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর, শেখ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল গফুর প্রমুখ। মহানগরী আমীর আরও বলেন, ছাত্র-জনতা রাজপথে নামলে বিএনপি গণভোটের রায় মানতে বাধ্য হবে। গণভোটের রায় মেনে না নেওয়ার অর্থ বিএনপি জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ওপর ভর করে ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি তাদের সঙ্গে বেঈমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা করছে। দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধন করতে চাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তারা নিজেদের পছন্দনীয় ব্যক্তিদের দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা দেশে ছিলেন না। কেউ লন্ডনে, কেউ শিলংয়ে অবস্থান করছিলেন। এ কারণে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার যে চেতনা ও আকাক্সক্ষা ছিল, তা বিএনপি সরকার অনুধাবন করতে পারছে না। ফলে তারা জুলাইয়ের চেতনা ধারণ ও লালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের আকাক্সক্ষা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায়বিচার ও নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিএনপি কেবল নির্বাচনকেই প্রাধান্য দিয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার ও ন্যায়বিচারের বিষয়ে দলটি কোনো সুস্পষ্ট দাবি উপস্থাপন করেনি। গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে মহানগরী আমীর আরও বলেন, শুধু ‘৩৬ জুলাই’ নয়, আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রতিটি দিনই ছিল গণহত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের সাক্ষী। ব্যাংক দখল, অর্থ পাচার, উন্নয়নের নামে দুর্নীতি এবং প্রশাসনে দলীয়করণসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলে তিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রতিটি ঘটনার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তি নয়, আওয়ামী লীগ দল হিসেবেও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। তাই দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের বিচার করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।



