স্থানীয় সংবাদ

ফুলতলায় ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৯ বছরের মেয়ের জীবন বাঁচাতে হতদরিদ্র বাবার করুন আর্তনাদ

# থমকে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন #

শেখ বদর উদ্দীন, ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি ঃ যে বয়সে পড়ার টেবিলে বই নিয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখার কথা, স্বপ্ন দেখার কথা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করার-সে বয়সে হাসপাতালের করিডোরে জীবনের শেষ নিঃশ্বাসের সঙ্গে মরণব্যাধী ক্যান্সারের সাথে লড়াই করছেন ১৯ বছরের প্রাণোচ্ছল তরুণী লাইলী খাতুন। খুলনার ফুলতলা উপজেলার খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা হত দরিদ্র মোঃ ফুরকান শেখ-এর মেয়ে মোসাঃ লাইলী খাতুন। সবেমাত্র এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে খুলনা বিএল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা শেষ করে একটি সরকারি চাকরি করবেন, ঝালমুড়ি বেচে সংসার চালানো বৃদ্ধ বাবার কাঁধের ভার কিছুটা লাঘব করবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ফুসফুসের মারণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে লাইলী। স্বপ্নের জায়গায় চেপে বসেছে ঘাতক ক্যান্সার, প্রায় আট মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন লাইলী খাতুন। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তার ফুসফুসে ক্যান্সার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লাইলীকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজন অন্তত ১৯ লাখ টাকারও বেশী। ইতিমধ্যেই ৩টি কেমোথেরাপি সম্পন্ন হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার জন্য আরও ৩টি কেমোথেরাপি ব্যয়বহুল ওষুধ এবং একটি জটিল অস্ত্রপচারের (অপারেশন) প্রয়োজন। রোগের প্রাথমিক খরচের ভার বহন করতেই সহায়-সম্বল হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এই হতদরিদ্র পরিবারটি।
“আমার লাইলীরে বাঁচান” – এক হতদরিদ্র বাবার আর্তনাদ যে হাতে প্রতিদিন ক্রেতাদের হাতে ঝালমুড়ির ঠোঙা তুলে দিতেন ফুরকান শেখ, আজ সেই হাত প্রসারিত তথা সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের সমীপে। হতদরিদ্র পিতা সর্বশেষ মেয়ের চিকিৎসা করাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিকট বিনীত আহবান জানিয়েছেন। ঢাকা ও খুলনার হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে একের পর এক ধার-দেনা করেছেন, নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে দ্বারে দ্বারে হাত পেতেছেন অসহায় পিতা। অশ্রুসিক্ত চোখে আকুল আকুতি জানিয়ে বাবা ফুরকান শেখ মানবজমিনের এই প্রতিনিধিকে বলেন,
“আমার লাইলীরে বাঁচাতে যদি আমার নিজের জীবন দেওয়া লাগতো, আমি তাও দিতাম। কিন্তু এত লাখ লাখ টাকা আমি কই পাবো? লাইলী আমারে রাইখে চলে যাবে ?এটা আমি ভাবতেও পারি না! আপনারা আমার মেয়েটারে বাঁচান।”
মায়ের আহাজারি আর কেমোথেরাপির ব্যথায় মাথার চুল হারিয়ে ফেলা নিস্তেজ লাইলীর একমাত্র আকুতি-তিনি সুস্থ হয়ে আবার পড়তে চান, ভর্তির স্বপ্ন দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সরকারি চাকরি করে হতদরিদ্র বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াতে চান। লাইলীকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে এবং একটি দরিদ্র পরিবারের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে আপনার সামান্য সহানুভূতিই হতে পারে তার জীবনের শেষ ভরসা। সহযোগিতা পাঠাবার ঠিকানা: বিকাশ / নগদ নম্বর- ০১৯১৩২৭৫২০০

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button