প্রশাসনের অভিযানেও থামছেনা জুয়ারবোর্ড : নিঃস্ব হয়ে বেপরোয়া হচ্ছে জুয়াড়িরা

# ফকিরহাট ও মোল্লারহাট সীমান্তের কাঠালবাড়ি মাটিয়ারগাতির জুয়ার আসর #
# লাখ লাখ টাকার জুয়ার আসরের পাশাপাশি চলছে মাদক সেবন ও বিক্রি
# বাগেরহাট এসপি সার্কেলের সাড়াশি অভিযানে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের চলছে জুয়ারবোর্ড
# মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ #
মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ গত জুন মাসের শেষের দিকে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট ও মোল্লারহাট সীমান্তবর্তী কাঠাল বাড়ি স্কুল সংলগ্ন খালপাড় এলাকার মাটিয়ারগাতি একটি নির্জন স্থানে জুয়ার বোর্ডে বাগেরহাট এসপি সার্কেলের সাড়াশি অভিযানের পর কিছুদিন খেলা বন্ধ থাকার পর ফের জুয়ার রমরমা আসর জমে উঠেছে। প্রতিদিন এ জুয়ার আসরে চলছে লাখ লাখ টাকার তাস খেলা। জুয়ার আসরের অধিকাংশ জুয়াড়িরা মাদকে আসক্ত হয়ে চালিয়ে যাচ্ছে জুয়া খেলা এমন অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এ জুয়া খেলায় অতিগোপনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোল্লাহাটের পাশে অবস্থিত ঠাংগারগাতী গ্রামে মেম্বার বালাম, ফকিরহাট বইলতলী গ্রামের মালেক সরদারের পুত্র মান্নান সরদার, কালাই ও মাদ্রাসাঘাটের আরও অনেকে। এদের কয়েকজনের সঙ্গে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফোন করলে এড়িয়ে যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন দুপুর ১ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত লাখ লাখ টাকার এ অবৈধ জুয়া খেলা বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে প্রায় ৩-৪ মাস ধরে অদৃশ্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে জুয়া খেলাটি চালিয়ে আসছে। গত ২৫জুন বাগেরহাট এসপি অফিস থেকে এসপি সার্কেলের নেতৃত্বে বিশাল বহর নিয়ে ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় জুয়ারবোর্ডে হানা দেয় একটি বড় টীম। সেখানে গিয়ে পৌঁছানোর আগেই জুয়াড়িরা তাদের মোটরসাইকেল গাড়ী ফেলে খাল পার হয়ে ফকিরহাটের দিকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করে বাগেরহাট এসপি অফিসে নিয়ে যায়। এলাকাবাসী বলছে, এই জুয়ার টাকা জোগাড় করতে এলাকায় চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মত ঘটনা ঘটছে। অনেকেরই মুখে মুখে পুলিশের ছাত্র-ছায়ায় জুয়ারবোর্ড চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এই জুয়া খেলার কারনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। এ ভাবে জুয়া খেলা চললে যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জুয়ার আসরে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগও রয়েছে বলে বিভিন্ন সুত্র থেকে প্রকাশ রয়েছে। এছাড়া জুয়াড়িদের অধিকাংশ পরিবারে এই জুয়া খেলার কারণে রয়েছে অশান্তিতে আছে এমন মন্তব্য করেছেন ওই এলাকার অনেকে। এ বিষয়ে অবৈধ জুয়া পরিচালনাকারীদের মধ্যে মো. বিল্লাল নামের একজন স্বীকার করে বলেন, কাঠাল বাড়ি জুয়া খেলা হয়। খেলতে আসলে দিনের বেলা সাড়ে ১২ টায় ফোন দিয়ে আসতে হয়। এ কথা বলে তার সংযোগকৃত ফোনটি কেটে দেয়। বালাম নামের আরেকজনের কাছে জুয়া খেলার বিষয়টি জানতে চাইলে অস্বীকার করে বলেন, এখানে কোন জুয়া খেলা হয়না। প্রথমে এড়িয়ে গেলেও পরে তিনি স্থানীয় মেম্বর পরিচয় দিয়ে বলেন খুলনায়ও জুয়া খেলা হয়। এখানের জুয়া খেলার কথা কে বলেছে ? অথচ তিনি আরও বলেন, খুলনা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে যারা আসে তারা হয়তো বলেছে এখানে জুয়া খেলা হয়। এই বলেই তিনি তার মোবাইলের সংযোগটি কেটে দেন। মুহুর্তের মধ্যে আবার তার মোবাইলে কল দিলে সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়। জুয়া খেলার বিষয়টি স্বীকার করে কালা নামের আরেকজন বলেন, সকালে ফোনে যোগাযোগ করলে বলা যাবে কোথায় খেলা হবে। ফকিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, জুয়া খেলার বিষয়ে আমার কাছে অনেকে বলেছে। মাঝে সংবাদ পেয়ে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি আমার এরিয়ার ভিতরে না। এরা খেলে মোল্লাহাট-বাগেরহাট সীমান্তবর্তী এলাকায়। তবে আমার এরিয়ার ভিতরে হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এ বিষয় কথা হয় মোল্লাহাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রমজানুল হকের সাথে তিনি জানান, গত জুন মাসে বাগেরহাট এসপি সার্কেল স্যারের নির্দেশে এখানে একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সে সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। ৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করে নিয়ে যায় বাগেরহাট এসপি সার্কেল থেকে। পরবর্তীতে আমি নিজেই বিভিন্ন স্পটে টীম পাঠাচ্ছি জুয়াড়িদের ধরতে। গতকালও টুঙ্গিপাড়া ও মোল্লাহাট সীমান্তে এরা জুয়ারবোর্ড বসিয়েছিল সেখানে মোল্লাহাট থানা পুলিশ পৌঁছানোর আগেই জুয়াড়িরা পালিয়ে যায়। আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে।” পুলিশ পৌঁছানোর আগেই যে কোন সোর্স থেকে জুয়াড়িরা খবর পেয়ে যাচ্ছে একথা স্বীকার করেছেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এলাকাবাসীর দাবী বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কাছে জুয়ারবোর্ড নির্মূল কার না গেলে এলাকায় মাদক, চুরি ডাকাতি, ছিনতাই রোধ করা সম্ভব নয়। আব্দুর রউফ (ছদ্ম নাম-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, এসপি স্যারের দেখা উচিত বিষয়টা “ঘরে ঘরে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। এ খোলোয়াড়রা আশপাশের এলাকা থেকে এমনকি খুলনা থেকেও এখানে খেলতে আসে, আর নিঃস্ব হয়ে ফিরে যায়।”



