স্থানীয় সংবাদ

যশোর সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে অর্ধ শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

# নতুন নির্দেশনা ঘিরে দুশ্চিন্তায় ক্লিনিক মালিকরা #

যশোর ব্যুরো ঃ যশোর সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার ঘোষণা ঘিরে যশোরের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে ওই সীমার মধ্যে থাকা বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের নির্দেশনা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন প্রতিষ্ঠান মালিকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেশের বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ পাঠানো হয়। গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নবিষয়ক সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আশপাশে আধা কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় অর্ধ শতাধিক এর ও বেশি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত। নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা, বিশেষ করে চিকিৎসক সংকট নিয়ে মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দড়াটানা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, চিকিৎসকদের বেসরকারি প্র্যাকটিস ও কমিশন বাণিজ্য বন্ধের উদ্দেশ্যেই মূলত এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একইভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সরকারি হাসপাতালে লোকবল, শয্যা ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সংকট থাকায় অনেক রোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নেন। নির্দেশনাটি বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসকের অভাবে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সমস্যায় পড়তে পারেন।
মর্ডান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত হুমকির মুখে পড়বে। সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের বাইরে নতুন করে প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের জন্য উপযুক্ত জায়গা পাওয়াও কঠিন। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক ও কুইন্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম মাইনুল হক রিয়ন বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা সম্পর্কে তারা জানতে পেরেছেন। তবে স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা পাননি। সিভিল সার্জনের দিকনির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একই সংগঠনের যশোর জেলা সভাপতি ডা. মেজবাউর রহমান বলেন, সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত। তবে ঘোষণাটি কার্যকর হলে বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। বিষয়টি শিথিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলে যোগাযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনো তাদের কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি।
যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল সাদিক রাসেল বলেন, ঘোষণাটিতে পরিবর্তন বা পরিমার্জন আসতে পারে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ কারণে আপাতত কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের অবস্থান কঠোর থাকবে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, এ বিষয়ে আপাতত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন হতে পারে বলে তারা শুনেছেন। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button