যশোরে কাজের প্রলোভনে স্কুলছাত্রী অপহরণ করে পাচারের চেষ্টা : কিশোরী উদ্ধার

# পুলিশের প্রেস ব্রিফিং #
# গ্রেপ্তার ২ #
যশোর ব্যুরো ঃ যশোরের অভয়নগরে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ঢাকায় পাচারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে ঢাকার গুলিস্তান এলাকা থেকে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের নলামারা গ্রামের বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল ১৪ বছর বয়সী তনুশ্রী বিশ্বাস। এ সময় মোটরসাইকেলে করে এসে রাতুল শেখ (২১) ও মুজাহিদ মোল্লা (২৩) তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
তনুশ্রীকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে অভয়নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, রাতুল শেখ তাকে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তনুশ্রীর বোন মনিষা বিশ্বাস বাদী হয়ে রাতুল শেখ, তার বাবা ও বোনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভয়নগর থানার উপপরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতুল শেখ ও তার বাবা তাজউদ্দিন শেখকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
পুলিশের প্রেস নোটে বলা হয়েছে, তনুশ্রীকে প্রথমে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অজ্ঞাতনামা মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে বাসযোগে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় আসিফ নামে এক ব্যক্তির কাছে আরও চারজন মেয়ের সঙ্গে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে অজ্ঞাতনামা এক নারী তাদের পাহারা দিতেন বলে পুলিশ জানায়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর সবাই ঘুমিয়ে পড়লে তনুশ্রী কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে গুলিস্তান বাস কাউন্টারে গিয়ে বোন পূর্ণিমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া তনুশ্রী বিশ্বাস অভয়নগরের নলামারা গ্রামের অমর বিশ্বাসের মেয়ে। তিনি খুলনা জেলার শিরোমণির জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার রাতুল শেখ ও মুজাহিদ মোল্লা নারী অপহরণ ও পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা সহজ-সরল মেয়েদের অর্থ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীদের কাছে তুলে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।



